বিশেষ প্রতিনিধি : বাঘ কি মানুষ খায়? সুন্দরবনের বনজীবীরা বিশ্বাস করেন বাঘ নয়, বাঘের রূপ ধরে দক্ষিণরায় মানুষ খায়। মানুষ কি বাঘ মারে? বনজীবীদের মতে মানুষ নয়, মানুষরূপী কোনো অবিবেচক অমানুষ কখনো কখনো বাঘ হত্যা করে। একক আয়তনে দুনিয়ার সবচে’ বড় ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনে এভাবই বাঘে-বনজীবীতে রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিজ্ঞান। সমস্যা হলো সুন্দরবনের এ সম্পর্কের বিজ্ঞান বারবার ক্ষতবিক্ষত ফালি ফালি হয় বহিরাগত উন্নয়ন মারদাঙ্গা ও বাহাদুরির চাপে। তারপরও শতসহস্র উন্মত্ত তুফান বিক্ষুব্ধ মাতবরি সয়ে রক্তাক্ত সুন্দরবন টিকে আছে। নিজের শরীর রক্তাক্ত করে সুরক্ষা দিয়ে চলেছে বাংলাদেশের শরীর। বাঁচিয়ে রাখছে দুনিয়ার প্রাণসঞ্চারী ভিত। ‘বনবিবির কেরামতি অর্থাৎ ধেনামৌলে ও দুঃখের পালা’ সুন্দরবন অঞ্চলে এক বহুল পঠিত পুঁথি। বনবিবির আখ্যানমতে, দণ্ডবক্ষ ও রায়মনী নামে দেওজাত রাক্ষস ৩৭ কোটি পিশাচ সিপাই লস্কর নিয়ে সুন্দরবন দখল করে। তারই পুত্র দক্ষিণ রায় পরে আরো অত্যাচারী হয়ে ওঠে। দক্ষিণ রায় বাঘের রূপ ধরে মানুষ খায়। এরপর বনজীবী মৌয়াল পরিবারের সন্তান দুঃখে বাদাবনের রক্ষাকারী বনবিবির আর্শীবাদে দক্ষিণারায়কে পরাস্থ করেন। হাজার বছর ধরে সুন্দরবন অঞ্চল বিশ্বাস করে মা বনবিবিই সুন্দরবনের রক্ষাকবচ। কিন্তু নয়াউদারবাদী বাহাদুরি সুন্দরবনের এ সম্পর্কের বিজ্ঞানকে মানতে নারাজ। সুন্দরবনের ৫ ও ৭ নং ব্লকে বহুজাতিক শেল ও কেয়ার্নকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমতি দেয় রাষ্ট্র। যদিও জনআন্দোলনের মুখে পরবর্তীতে তা বাতিল হয়। ১৯৯৯ সনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৭ বছরের জন্য ‘সুন্দরবন প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প’ হাতে নেয়, যা পরবর্তীতে স্থানীয়দের আন্দোলনে স্থগিত হয়ে যায়। আবারও সুন্দরবনকে জখম করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে নয়াউদারবাদী উন্নয়ন বাহাদুরি। সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের নলিয়ান থেকে ১৪ কি.মি. উত্তর-পূর্বে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) যৌথভাবে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনের এক সর্বনাশা উন্নয়ন মারদাঙ্গা শুরু করেছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই বাহেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সাপমারী-কাটাখালী মৌজার ১,৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে, যার ভেতর কৃষি জমির পরিমাণ ১,৭৪৫ একর। প্রস্তাবিত এলাকাটি একসময় সুন্দরবনের অংশ থাকলেও বর্তমানে বহিরাগত সেটেলারদের মাধ্যমে অধিকৃত হয়েছে (ইআইএ প্রতিবেদন ২০১৩, পৃ.২০৮)।
ম্যানগ্রোভ বিজ্ঞানকে অস্বীকার
প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাটি ৪ ধরনের জৈব-প্রতিবেশীয় অঞ্চল ও তিন ধরনের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তুসংস্থানের অর্ন্তগত। এটি দেশের বৃহৎ কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ধানের এক আদি জাত রায়েন্দা ধানের জন্মভূমি এ অঞ্চল। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম হাইড্রলজিক্যাল অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলপ্রবাহ পশুর (আইডি নং-১৭৯) এবং মাইদারা প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় প্রবহমান। বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৪.২ ভাগ এবং দেশের মোট বনভূমির ৪৪ ভাগ জুড়েই সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ বনের বিশেষ চরিত্রের কারণেই সুন্দরবন অঞ্চলে এর নাম হয়েছে বাদাবন, জোয়ারভাটা বন কি প্যারাবন। বলেশ্বর, পশুরসহ প্রায় ৪৫০টি ছোট বড় নদ-নদীর প্লাবনভূমিতে গড়ে ওঠা এই বনের ৬০১৭ কি.মি এলাকায় ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৩৭৫ প্রজাতির প্রাণী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪৩ প্রজাতির ঝিনুক সহ অগনিত প্রাণবৈচিত্র্যের সাথে বনজীবী জনগণ গড়ে তুলেছে এক বাদানির্ভর ঐতিহাসিকতা। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুণা জেলার ১৭টি উপজেলার প্রায় ৬ লাখ স্থানীয় বাওয়ালী-মৌয়াল-মাঝি-জেলে-চুনরি-মুন্ডা-মাহাতোর জীবনপ্রবাহ সরাসরি সুন্দরবনকে আগলে আছে। এছাড়াও আরও প্রায় ২৫ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সংগঠিত ‘বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাঘশুমারি ২০০৪’ সুন্দরবনে ৪১৯টি বাঘের সন্ধান পেয়েছে। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার চাঁদপাই রেঞ্জে মোট ৬৩টি বাঘ আছে। একটি বাঘের জন্য ১৪ বর্গ কি.মি. বিচরণঅঞ্চল প্রয়োজন। একটি একক বনে বাঘের সংখ্যা ঘনত্ব বর্তমান বিশ্বে সুন্দরবনেই সবচে বেশি। সুন্দরবন হচ্ছে বিশ্বে ইরাবতী ডলফিনের সবচে বড় বিচরণ অঞ্চল। সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলিতে ম্যানগ্রোভ বন থাকলেও, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বৈচিত্র্য বেশি। জরায়ুজ অংকুরোদগম, শ্বাসমূলের উপস্থিতি, খাড়া লম্বা ঠেসমূল, লবনগ্রন্থি, রসালো পাতা, পাতায় পানি সংরক্ষণ কলার উপস্থিতি এরকম নানান হ্যালোফাইটিক বৈশিষ্ট্য ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ সমূহকে লবণাক্ত বাস্তুসংস্থানে বেঁচে থাকার শক্তি তৈরি করেছে। ম্যানগ্রোভ অরণ্য স্থলজ বনের চেয়ে ভিন্নতর কারণ এখানে বনের পুষ্টির প্রাথমিক উৎসস্থল থাকে বনের বাইরে চারধার জুড়ে। ম্যানগ্রোভ বন সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের অন্যতম খাদ্য উৎস। সুন্দরবন কি তার আশেপাশে কোনো উন্নয়ন কর্মসূচির আগে ম্যানগ্রোভ বিজ্ঞান ও এর ঐতিহাসিক বিকাশমানতাকে বোঝা জরুরি। প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বিজ্ঞানকে অস্বীকার করছে। এর জটিল খাদ্যশৃংখল ও স্পর্শকাতর বাস্তুসংস্থানকে না দিয়ে কয়লা পুড়িয়ে বিশ্বের সবচে’ বড় ম্যানগ্রোভ বনটিকে খুনের পাঁয়তারা চলছে। সুন্দরবনে একটি প্রাণের সাথে আরেক প্রাণের এমন গভীর জটিল সম্পর্ক যে, একটির ক্ষতি হলে পুরো বনকেই তা সামাল দিতে হবে। যার করুণ পরিণতি ভবিষ্যতে সরাসরি বাংলাদেশকে এবং বিশ্বকেও টানতে হবে।
বিশ্বঐতিহ্য ও বৈশ্বিক দায়বোধ
বাংলাদেশ ২১ মে ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে দেশের প্রথম রামসার এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। সুন্দরবনের ৬০১,৭০০ হেক্টর বনভূমি এই আন্তজার্তিক সনদের সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭২ সনে গৃহীত হয় ‘বিশ্ব সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সনদ’। উল্লিখিত সনদের ৪নং ধারায় উল্লেখ আছে, সকল রাষ্ট্রপক্ষ তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করবে যাতে ভবিষ্যতে এ থেকে বিশ্ববাসী বঞ্চিত না হয়। পাশাপাশি ৫নং ধারায় বলা হয়েছে, একাধিক রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে ঐ স্থানসমূহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উল্লিখিত সনদের আলোকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য পর্ষদের একুশতম সভায় ১৯৯৭ সনের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ৫২২তম ‘বিশ্বঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সনের ৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের নীলকমলে বিশ্বঐতিহ্য ফলক আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ১৯৯৯ সনে সুন্দরবনের আশেপাশের ১০ কি.মি. এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১২ সনের ২৯ জানুয়ারি ডলফিন সুরক্ষায় সুন্দরবন অঞ্চলকে ডলফিন অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সুন্দরবনকে ‘প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের’ তালিকায় যুক্ত করতে তুলকালাম করেছে চারদিক। অথচ আজ এই বনের কী করুণ দশা! বিশ্বের এক গুরুত্বপূর্ণ কার্বণ-শোষণাগার হিসেবে বৈশ্বিক জলবায়ু সুরক্ষায় জান-জীবন ক্ষয় করেও সুন্দরবনকে আজ অন্যায় মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে। ২০১১ সনের ২৯ সেপ্টেম্বর বন অধিদপ্তর পরিবেশ ও বনমন্ত্রণালয়কে এ প্রকল্প সম্পর্কে চিঠিতে জানায়, কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের রয়েলবেঙ্গল টাইগার তথা সমগ্র জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। কী হবে তাহলে ছিঁচকাঁদুনে পরিবেশ আইন আর ‘জলবায়ু পরিবর্তন দেনদরবারের বৈশ্বিক ন্যাকামি’ দিয়ে। দুনিয়ার সবচে বড় ম্যানগ্রোভ বনকেই যখন পাত্তা দেয়া হচ্ছে না, তখন আবার কীসের সুরক্ষা সনদ আর জলবায়ু জিজ্ঞাসা? আমাদের ভেতর কি ন্যূনতম দায়বোধ কি কৃতজ্ঞতা জাগবে না? সুন্দরবনের সুরক্ষা কিন্তু কোনোভাবেই কোনো স্থানীয় কি জাতীয় দায়িত্ব নয়, এ আমাদের বৈশ্বিক দায় ও বিশ্বজনীন নৈতিকতা। কোনোভাবেই কোনো অর্থেই ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎপ্রকল্প সুন্দরবনের চেয়ে বড় হতে পাওে না। কারণ সুন্দরবন কেবল বাংলাদেশ বা ভারত নয়, বিশ্বসভ্যতা টিকে থাকার শর্ত ও কারিগরিকেও প্রভাবিত করে।
ইআইএ বিতর্ক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ ২০১৩ সনের জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ‘পরিবেশগত প্রভাব যাচাই প্রতিবেদন (ইআইএ)’ প্রকাশ করে। কোনো সুনির্দিষ্ট ইআইএ ছাড়াই কেন এ প্রকল্পের কাজ ও চুক্তির দরবার শুরু হল এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বিতর্ক ওঠেছে ইআইএ প্রতিবেদন ঘিরে। ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার ১০ কি.মি ব্যাসার্ধের ভেতর রয়েছে ৭৫ শংতাংশ কৃষিজমি, যেখানে বছরে ৬২,৩৫৩ টন ধান ও ১ লাখ ৪০ হাজার ৪৬১ টন অন্যান্য শস্য উৎপাদিত হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন নদী ও খালপ্রবাহে বছরে ৫,২১৮.৬৬ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানো হবে। প্রকল্প প্রতিবেদন অনুযায়ী এ থেকে ৭৯ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাউড উৎপন্ন হবে। প্রতিদিন ১৪২ টন সালফার ডাই অক্সাইড ও ৮৫ টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৭ অনুযায়ী, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকায় বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রামের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি মানে শীতকালে হবে ৫৪ মাইক্রোগ্রাম। ইআইএ প্রতিবেদনে প্রকল্প এলাকাকে ‘আবাসিক ও গ্রাম এলাকা’ দেখিয়ে এ অগ্রহণযোগ্য ঘনমাত্রাকে বৈধ করা হয়েছে। ইআইএ প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো ও শীতলীকরণসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পশুর নদী থেকে ঘন্টায় ৯,১৫০ ঘনমিটার পানি প্রত্যাহার করে ব্যবহারের পর পানি পরিশোধন করে ঘণ্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে নদীতে ছেড়ে দেয়া হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে প্রকল্প এলাকার ধান, মাছ ও গৃহপালিত প্রাণিসম্পদ ধ্বংস হবে। বিভিন্ন ধরনের নির্মানকাজ, ড্রেজিং, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক ও তৈল নিঃসরনের ফলে পশুর ও মাইদারা নদী, সংযোগ খাল, জোয়ারভাটার প্লাবনভূমি ইত্যাদি মাছের চলাচল ও প্রাণবৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে (ইআইএ প্রতিবেদন ২৬৬, ২৬৭)। প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্র ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়িয়ে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লাখ টন বটম অ্যাশ উৎপন্ন করবে। এ বিষাক্ত ছাই পরিবেশ নির্গত হলে মারাত্মক দূষণ ঘটাবে (পৃ.২৮৭)। আবার একই প্রতিবদনে অন্যত্র এ বিষাক্ত ছাই সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্গত ছাই দিয়ে ১৮৩৪ একর জমির ভেতর ১৪১৪ একর জমি ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হবে (পৃ.২৬৩)। ইআইএ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশুর ও মাইদারা নদী হচ্ছে গাঙ্গেয় ও ইরাবতী ডলফিন এবং কুমিরের আবাসস্থল। রামপাল বিদ্যুৎপ্রকল্পের জন্য কয়লা পরিবহন ও তেল নিঃসরনের ফলে এসব মহাবিপন্ন জলজ প্রাণীদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে (পৃ.২০৭ ও পৃ.২০৯)।
সুন্দরবন চকরিয়া হবে না!
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৯৬২ সাল থেকেই জান ও যৌবন দিয়ে আসছে বাংলাদেশের বনভূমি। উদ্বাস্তু হয়েছে কৃষি, জীবিকা ও জীবনধারা। ১৯৬২ সালে রাঙ্গামাটির কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদুৎ উৎপন্ন করতে গিয়ে রাষ্ট্র ডুবিয়ে দিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম, জঙ্গলের পর জঙ্গল, জীবনের পর জীবন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র যখন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়াতে ২৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের প্রথম কয়লানির্ভর তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলে তখনও রাষ্ট্র জীবন, মাটি, পরিবেশ ও জনজীবনের আহাজারিকে পাত্তা দেয়নি। ভূ-প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবন অঞ্চলের গঠন নবীন। এখানকার প্রতিবেশ ও বাস্তুসংস্থান খুবই স্পর্শকাতর। চোখের সামনেই দেশের আরেক ম্যানগ্রোভ অরণ্য চকরিয়া-সুন্দরবন বাণিজ্যিক উন্নয়নের কারণে আজ নিহত হয়েছে। ১৯০৩ সনের ১৯ ডিসেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ার ২১,০২০.৪৫ একর এলাকাকে ম্যানগ্রোভের বন হিসেবে চকরিয়া রেঞ্জ ঘোষণা দেয়া হয়। ১৯৭৮ সন থেকেই এ বনের উপর চিংড়ি বাণিজ্যের নির্যাতন শুরু হয়। ১৯৭৮ সন থেকে বাণিজ্যিক চিংড়ি ঘেরের কারণে আমাদের চোখের সামনে খুন হয়ে যায় চকরিয়া সুন্দরবন। রাষ্ট্রের বনবিভাগ ও বহুপাক্ষিক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক সকলেই এই বিনাশের অন্যতম সহচর হিসেবে কাজ করে। সুন্দরবনের মতো উপকূলীয় বনাঞ্চলগুলো খুবই নাজুক থাকে। তাই এসব এলাকায় যেকোনো ধরনের বাণিজ্যিক উন্নয়ন উন্মাদনা ধ্বংসই ডেকে আনে। নাইজেরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ১৯৬০ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তেল-গ্যাস খনিজনিত দুর্ঘটনা ও নিঃসরণ সেখানকার উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বাস্তুসংস্থানকে উল্টেপাল্টে দেয়। বাংলাদেশেও জীবাশ্ম-জ্বালানি নির্ভর উন্নয়ন উন্মাদনায় জান দিতে হয়েছে একের পর এক বনভূমি-বাস্তুসংস্থানকে। ১৯৫৫ সনে হরিপুর, ১৯৬০ সালে সামুতাং, ১৯৯৭ সনে মাগুরছড়া, ২০০৫ সনে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ ঘটে। ভারতের ছত্রিশগড়ের রায়গড়ে ভারতীয় এনটিপিসি কোম্পানির ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করে ইআইএ প্রতিবেদন, সেখানে ‘জিরো ডিসচার্জ নীতি’ গ্রহণের কথা বলা হয় (রায়গড় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, এক্সিকিউটিভ সামারি, পৃ.২)। অথচ এনটিপিসির সাথে ২০ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশ-ভারত রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এখানে যৌথ উদ্যোগ চুক্তি, বাস্তবায়ন চুক্তি ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি রয়েছে। জাতিসংঘের আন্তজার্তিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদ ১৯৯২ এবং আন্তজার্তিক রামসার সনদ ১৯৭২ অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশ সুন্দরবন অঞ্চলে এ সর্বনাশা প্রকল্প কোনোভাবেই গ্রহণ করতে পারে না। কারণ এরা উভয়েই উল্লিখিত সনদ ও ঘোষণা স্বাক্ষর, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করছে। এমনতিইে সুন্দরবনের উপর আঘাতের উপর আঘাত, জখমের পর জখম। দিনে দিনে এর বৈচিত্র্য ও সীমানা কমছে। ১৯০৩ সনে ডেভিস প্রেইন সুন্দরবন মানচিত্রের যে বর্ণনা দেন সেখান থেকে দেখা যায় সুন্দরবনের বিস্তৃতি গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে হুগলীর পশ্চিমপ্রান্ত এবং গঙ্গার পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত। অবিভক্ত বাংলার দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, খুলনা ও বাখেরগঞ্জ নিয়ে ছিল সুন্দরবনের বিস্তৃতি। সুন্দরবনের সেই ব্যাপ্তি ও কারিগরি বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বনজীবীসহ ম্যানগ্রোভ প্রাণবৈচিত্র্যের দেনদরবার আর যাপিতজীবনের সম্পর্কের ভেতর দিয়েই সুরক্ষিত হোক সুন্দরবনের ঐতিহাসিক পরিবর্তনশীলতা। অবিলম্বে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবন অঞ্চল থেকে সরাতে হবে। নয়াউদারবাদী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নয়, সুন্দরবনকে দেখতে হবে ম্যানগ্রোভ বিজ্ঞানের জীবনদর্শন থেকে। দেশীয় আইন, আন্তর্জাতিক সনদ ও নীতি সুন্দরবন সুরক্ষার পক্ষে। আর সুন্দরবনের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্বজনীন প্রকৃতিঘনিষ্ঠ নৈতিকতাই যথেষ্ট। নয়াউদারবাদী কিছু রাজনৈতিক ব্যবসায়ী ছাড়া দেশের সকল জনগণ এ নৈতিকতা ধারণ করে। দুনিয়ার সবচে বড় ম্যানগ্রোভ বনকে খুন করে রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাহাদুরি রুখতে হবে। যে বন নিজের জীবন রক্তাক্ত কওে হাজার বছর ধরে আমাদের বাঁচিয়ে রাখছে, আমরা নিজেদের বিদ্যুৎ বিলাসিতার কারণে তার নির্মম মরণ মানতে পারি না। আসুন বাদাবনের জোয়ারভাটার মতো ছলকে ওঠি। আছড়ে পড়ি। উপড়ে দিই নয়াউদারবাদী বাণিজ্য বাহাদুরি। রামপাল তাপবিদ্যুৎ এক মারদাঙ্গা প্রল্প, কিন্ত সুন্দরবনই সত্য। আসুন ইতিহাসের এ ব্যাকরণ আবারো সত্য প্রমাণিত করি।
ভালো নেই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং দুর্যোগে হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই বনের প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় অসচেতনতা, অবহেলা এবং সর্বোপরি মানুষের ক্রমাগত অত্যাচারে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে এ বন।
সুন্দরবন আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখে, ঝড়-ঝাঁপটাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৈব-দুর্বিপাক থেকে আমাদের রক্ষা করে। অথচ সেই সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য নানা কারণে রক্ষা হচ্ছে না। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা কেটে নিচ্ছে গাছ। শিকার করা হচ্ছে বাঘ ও হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী।
২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক ডজন হরিণ শিকার ও দুটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না বন বিভাগ। এদিকে সাগরের পানির উচ্চতা ও লবণাক্ততা বাড়ায় কমে যাচ্ছে সুন্দরী গাছ, কমছে বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র। জেলে সেজে বনে গিয়ে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের কারণে কমে যাচ্ছে মাছের পরিমাণও।
ঝড়-ঝঞ্ঝা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে এলাকাকে বাঁচাতে সুন্দরবন এক সাহসী যোদ্ধা। ঢাল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সৈনিকের মতো। সুন্দরবন রক্ষা করেছে উপকূলীয় লাখো মানুষের জীবন, তাদের বাড়িঘর, পশুপাখি, বেঁচে থাকার একান্ত সম্বল। দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সুন্দরবনের রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা।্
প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নিছক একটি বন নয়, এটি একটি ইকোসিস্টেম। এর নদ-নদী, চারিদিকে ঘিরে থাকা বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের এক অনন্য সম্পদ। অথচ অত্যাচার-অনাচারে জর্জরিত বিশ্ব প্রকৃতির বিরলতম সম্পদ বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ক্রমাগত অস্তিত্ব সংকট-ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সুন্দরবন হারাতে বসেছে তার অতীত ঐতিহ্য। দিন দিন মুখ থুবড়ে পড়ছে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত
বিশ্বে যে ১৩টি দেশে বাঘ রয়েছে এরমধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঘের সংখ্যা বাড়ার লক্ষণ দেখা গেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও নানা প্রতিকূল পরিবেশ, নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে শুধু বাঘ নয়, বনের সামগ্রিক জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনে জীবনযাপনে নানা প্রতিকূলতার পাশাপাশি সাগরে পানির লবণাক্ততা বাড়ার ফলে মিষ্টি পানি পানে অভ্যস্ত বাঘ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায়ই অকালে মারা যাচ্ছ।
৬ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ক্রেতা সেজে ৮০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া কেনার ফাঁদ পেতে তিনজনকে আটক ও একটি বাঘের চামড়া জব্দ করেছে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব)। বিকেলে উপজেলার হরিনগর বাজার সংলগ্ন ধলপাড়া গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের বাড়ি থেকে বাঘের চামড়াটি উদ্ধার করেন র্যা ব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের্।
১২ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন থেকে একটি বাঘের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কলাগাছির মুরালীখাল এলাকা থেকে বাঘের মরদেহটি উদ্ধার করে লোকালয়ে আনেন বনবিভাগের সদস্যরা।
রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী চিত্রা হরিণসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এ বন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়ে উপকূলবাসীকে রক্ষা করেছে মায়ের মতো। উপকূলের কোটি-কোটি মানুষকে নিরাপদে রাখলেও নিজে ভালো নেই সুন্দরবন। জলবায়ু পরিবর্তন, পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও কাঠ পাচারকারীদের কারণে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে পড়ছে সুন্দরব।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সংরক্ষিত বনভূমির ৫১ শতাংশই হচ্ছে সুন্দরবন। প্রায় ছয় হাজার ১১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বনে রয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুরসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছ। নদ-নদীতে রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় তালিকায় থাকা ইরাবতীসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন ও ২১০ প্রজাতির মাছ।
সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়ে আসছে সুন্দরবন দিবস।
সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, সুন্দরবনের সুরক্ষা এখন সময়ে দাবি। এ বনের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ দরকার। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষায় সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। যার জন্য সুন্দরবন বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালনের দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের।
রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস পালনের সরকারি কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেন, সুন্দরবন দিবসের চেয়ে সুন্দরবনের জন্য কী করে যেতে পারলাম সে বিষয়েই আমি বেশি আগ্রহী। ভার্চ্যুয়ালের দিকে আমি কম আগ্রহী। বাস্তবে সুন্দরবনের জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেটাই আসল বিষয়। নাম তো যে কেউ একটা দিতে প
জানা যায়, ২০০১ সালে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন। নানান প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্য পাওয়া সে সম্মেলনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন সেই সময়ের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। ২০০১ সালের সেই সুন্দরবন সম্মেলনের পরের বছর থেকেই খুলনাসহ সুন্দরবন সন্নিহিত জেলাগুলোয় ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সুন্দরবন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে এ দিবস পালনের কর্মসূচিতে সংযুক্ত থাকে সুন্দরবন একাডেমি, বন বিভাগ, বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুন্দরবন সংলগ্ন সাংবাদিক সমাজ এবং প্রকৃতিপ্রেমী আপামর মানুষ।