সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড লবণ পানি উত্তোলনের পাই প ও মিনিক্যালবাট বন্ধ করে দিয়েছে ।সকল চিংড়ি ও কাঁকড়া ঘের এর মালিকদের যার কারনে বন্ধ হয়ে গেছে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ। এখন হবে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণ পানি সহনশীল ধান চাষ সহ অন্যান্য চাষাবাদ। গত দুই মাস ধরে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড শ্যামনগর উপজেলা, আশাশনি উপজেলা সহ যে সমস্ত উপজেলা দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাদ ছিদ্র করে লবণ পানি উত্তোলন করে চিংড়ি চাষ ও কাকড়া চাষ হচ্ছিল সেই সমস্ত পাইপ মিনি কালভার্ট বন্ধ করার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই প্রতিবেদককে বলেন সরকারি নির্দেশনায় এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে ইতিমধ্য ৯০ ভাগ কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে বাকি ১০ ভাগ ১৫ই অক্টোবরের মধ্য শেষ হবে । যার কারণে বর্তমান বছরের যে সমস্ত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষীদের ঘেরে মাছ কাঁকড়া রয়েছে তারা মারাত্মক বিভাগে পড়েছে লবণ পানি সংকটের কারণে। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন কিছুই করার নেই আমাদের কারণ আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে দফায় দফায় চিঠি দিয়েছি এগুলো বন্ধ করার জন্য কিন্তু তারা স্ব-ইচ্ছায় বন্ধ না করায় সরকারের নির্দেশে আমরা এর জন্য বরাদ্দ পেয়ে তারপরে ভাঙ্গা শুরু করেছি , কোন কায়দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাদ ছিদ্র করে বা মিনিকালবাট বসিয়ে লবণ পানি উত্তোলন করা যাবে না। তিনি আরো বলেন যদি কেহ এই আইন অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে বিশেষ ক্ষমতা আইন আছে সেই বিশেষ ক্ষমতায়নে মামলা করা হবে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলীয় এলাকায় পানির অভাবে চিংড়ি ও কাঁকড়া মারা যাচ্ছে, সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বেড়িবাঁধের ভেতরে বসানো অবৈধ পাইপ অপসারণ করার পর থেকেই এ সংকট দেখা দিয়েছে। পাইপগুলো দিয়ে নিয়মিত নদী থেকে পানি এনে ঘেরগুলোতে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু পাইপ অপসারণের কারণে বর্তমানে ঘেরে নতুন পানি ঢোকানো সম্ভব হচ্ছে না। এ সময় স্থানীয় ঘের মালিকরা জনান, পাইপগুলো উপকূলের নদ-নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙার অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে প্রতিবছর হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অবৈধ পাইপগুলো অপসারণের দির্দেশনা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সেই নিদের্শনা বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিকাশ মণ্ডল বলেন, পানির প্রবাহ বন্ধ থাকায় মৎস্য ঘেরের ভেতরের পানি দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন শত শত চিংড়ি ও কাঁকড়া মারা যাচ্ছে। এতে মৎস্য ও কাঁকড়া খাতে ব্যাপকহারে ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা। এদিকে হঠাৎ পাইপ অপসারণে সংকটে পড়েছে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষিরা। স্থানীয় ঘের মালেক, ছাত্তার, বাবু জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া চাষই মানুষের প্রধান জীবিকা। কিন্তু হঠাৎ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এরইমধ্যে অনেক চাষি ক্ষতির কারণে ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন। দুর্গাবাটি এলাকার ঘের ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র বলেন, বেড়িবাঁধে পাইপ বসানো আইনত নিষিদ্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না করে পাইপগুলো এক সঙ্গে তুলে ফেলায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান করি যাতে বিকল্প কোনো খাল, স্লুইসগেট বা বৈধ জলপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হোক। না হলে উপকূলের হাজারো মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। স্থানীয় কাঁকড়া ব্যবসায়ী অনাথ মণ্ডল জানান, বুড়িগোয়ালিনীসহ আশপাশের এলাকায় ঘের নির্ভরশীল প্রায় কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে। এভাবে পানি সংকট চলতে থাকলে মাছ ও কাঁকড়া উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরার উপকূল জুড়ে বেশ কিছু ফিশারির নির্মাণ করা স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে, পড়ে থাকা কলগেটগুলো সংস্থার করা হলে মৎস্য চাষে কোনো প্রকার পানির ঘাটতে হতো না। মৎস্যচাষিরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ও কাঁকড়া চাষ টিকিয়ে রাখতে পানি সরবরাহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফিশারি প্রকল্পের কলগেটগুলো সংস্কার করা গেলে পানি প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে বলে তাদের আশা। ঘের মালিকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত বিকল্পভাবে পানি সরবরাহের রাস্তা তৈরির ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানান।
স্থানীয় মৎস্যঘের মালিকরা জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বেড়িবাঁধের ভেতরে বসানো শত শত অবৈধ পাইপ মিনি কালভার্ট অপসারণ করার পর থেকেই এ সংকট দেখা দিয়েছে। পাইপগুলো দিয়ে নিয়মিত নদী থেকে পানি এনে ঘেরগুলোতে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু পাইপ অপসারণের কারণে বর্তমানে ঘেরে নতুন পানি ঢোকানো সম্ভব হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলার সাত নম্বর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন
‘পানির প্রবাহ বন্ধ থাকায় মৎস্যঘেরের ভেতরের পানি দ্রুত গরম হয়ে যাচ্ছে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন শত শত চিংড়ি ও কাঁকড়া মারা পড়ছে। মৎস্য ও কাঁকড়া খাতে ব্যাপকহারে ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।’
আটুলিয়া, মুন্সিগঞ্জ, গাবুরা, বুড়িগালনি, কাশিমাড়ী, রমজান নগর, কৈখালী , ও সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনিয়া উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের,স্থানীয় একাধিক ঘের মালিক জানান, ‘উপকূলীয় এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া চাষই মানুষের প্রধান জীবিকা। কিন্তু হঠাৎ পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষিরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যে অনেক চাষি ক্ষতির কারণে ধার-দেনায় জড়িয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বুড়িগঙ্গ ইউনিয়নের দুর্গাবাটি এলাকার ঘের ব্যবসায়ী বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘বেড়িবাঁধে পাইপ বসানো আইনত নিষিদ্ধ হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না করে পাইপগুলো একসাথে তুলে ফেলায় আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান করি যাতে বিকল্প কোনো খাল, স্লুইসগেট বা বৈধ জলপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে উপকূলের হাজারো মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
স্থানীয় কাঁকড়া ব্যবসায়ী অনাথ মন্ডল জানান, ‘বুড়িগোয়ালিনীসহ আশপাশের এলাকায় ঘের নির্ভরশীল প্রায় কয়েক হাজার পরিবার রয়েছে। এভাবে পানি সংকট চলতে থাকলে মাছ ও কাঁকড়া উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নামবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল , গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু, কাশিমাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আনিসুজ্জামান, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, রমজান নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন, কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী, তাদের কাছে কাছে এই প্রতিবেদক জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘সাতক্ষীরার উপকূল জুড়ে বেশ কিছু থাট ফিশারির নির্মাণ করা স্লুইসগেট দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে, পড়ে থাকা কলগেট গুলো সংস্কার করা হলে মৎস্য চাষে কোন প্রকার পানির ঘাটতি হতো না।’
মৎস্যচাষিরা জানান, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ ও কাঁকড়া চাষ টিকিয়ে রাখতে পানি সরবরাহ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফিশারি প্রকল্পের কলগেটগুলো সংস্কার করা গেলে পানি প্রবাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হবে।’
ঘের মালিকরা জরুরি ভিত্তিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত বিকল্পভাবে পানি সরবরাহের রাস্তা তৈরির ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।এ সময় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. রনি খাতুন জানান, স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে পাইপগুলো অপসারণ করা হয়েছে। যদি ঘের ব্যবসায়িরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে তাদের বিকল্প ব্যাবস্থা নেয়া হবে।সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় পানির অভাবে ব্যাপক হারে চিংড়ি ও কাঁকড়া মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।