উপকুল প্রতিনিধি, শ্যামনগর : সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জাবাখালী গ্রামের চিংড়ি চাষী গোলাম হোসেন(৬০)কে হত্যার ঘটনায় মামলা (যার নং-১৩) হয়েছে। নিহতের ভাই মোঃ গফুর মোড়ল বাদী হয়ে শনিবার রাতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামীয় চার/পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করে। পুলিশ এজাহার নামীয় পাঁচ নারীসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সাইফুল ইসলাম(৪০), রেজাউল ইসলাম(৫৫), সেলিম হোসেন(৫০), ফারুক হোসেন(৩২), মাসুমা খাতুন(৪৫), মাহফুজা খাতুন(৩০), জহুরা বেগম(৩০), ফাতেমা খাতুন(৪০) ও ছফুরা বেগম(৬৫)। উল্লেখ্য চলাচলের রাস্তা নিয়ে বাদানুবাদের জেরে ২০ ডিসেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে গোলাম হোসেনকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ এমান আলী ও তার লোকজন। এসময় হত্যাকান্ডে জড়িত সাইফুল, সেলিম, ফারুক ও রেজাউলকে স্থানীয়রা একটি ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করার পর পুলিশ যেয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ চারটি হাসুয়া ও লাঠি উদ্ধার করা হয়। গোলাম হোসেন উপজেলার জাবাখালী গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দীন মোড়লের ছেলে। হত্যায় জড়িতরা সকলে তার প্রতিবেশী। এদিকে অভিযোগ উঠেছে হত্যাকান্ডে এমান আলীসহ ঘটনাস্থল থেকে আটক সাইফুল, সেলিম, রেজাউল ও ফারুক জড়িত হলেও পাঁচ নারীসহ ইয়াছিন নামের এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমুলকভাবে আসামী করা হয়েছে। গ্রাম্য রাজনীতি নিয়ে দলাদলির জেরে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র ঘটনাস্থলে না থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে আসামী করেছে। আনোয়ার- উস শাহাদাৎ নামের এক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন হত্যা মামলায় নিয়ে বানিজ্য করতেই উদ্দেশ্যমুলকভাবে কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। এমনকি নিহতের ছেলে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তার পরিবর্তে গোলাম হোসেনের ভাইকে বাদি করা হয়েছে। শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান বাদি এজাহারে যাদের নাম উল্লেখ করেছে সবাই আসামীভুক্ত হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে কেউ জতি নেই প্রমানিত হলে চার্জশীটে তাকে বাদ দেয়া হবে। জনতার সহায়তায় গ্রেপ্তার নয়জনকে রোববার সকালে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।