প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ৩:৩৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ২, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত দেশ: সড়ক ও নৌ চলাচলে চরম ভোগান্তি
আলতাফ হোসেন অনিক : গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে সারা দেশ। শীত মৌসুমের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাওয়া কুয়াশায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সড়ক, নৌ ও আংশিকভাবে রেল চলাচল। বিশেষ করে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দৃশ্যমানতা নেমে আসছে কয়েক মিটারে, ফলে তৈরি হচ্ছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী গাড়ী গুলো, যেমন বরিশালের পয়সার হাট থেকে ছেড়ে আসা স্টার এক্সপ্রেস পরিবহনটির চালক মোঃ মশিউর রহমান বলেন তার রুট হলো পয়সার হাট থেকে কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ভাটিয়াপাড়া ও পদ্মাসেতু হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত, প্রতিদিনের মতো আজ ও সকাল ৭টায় পয়সার হাট কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছি, তবে গত কয়েক দিনের টানা সত্য প্রবাহ বইছে এর সাথে প্রচন্ড ঘনো কুয়াশা কারন ২০ গজ দুরেও দেখা যাচ্ছেনা, তবুও সতর্কতার সাথেই আমাকে গাড়ি চলতে হচ্ছে। কুয়াশার কারনে
দেশের উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের নদীবিধৌত এলাকাগুলোতে ঘনো কুয়াশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক স্থানে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে একদিকে যেমন দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে, তবে বেশির ভাগই খেটে-খাওয়া দিনমজুরেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে নৌপথে বেড়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক চালক বাধ্য হয়ে হেডলাইট ও ফগ লাইট জ্বালিয়ে চললেও দৃশ্যমানতা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
নৌ চলাচলে স্থবিরতা
নদীঘেরা জেলা ও নৌরুট গুলোতে কুয়াশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। অনেক স্থানে ফেরি, লঞ্চ ও ছোট নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কুয়াশা ঘন হলে নৌ চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনজীবন
ঘন কুয়াশা ও শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীরা। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুরদের আয়-রোজগারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কতা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সড়ক ও নৌ চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কুয়াশার সময় অপ্রয়োজনে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিং ও সতর্কবার্তা জোরদার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ঘন কুয়াশার এই বিরূপ প্রভাব থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত