দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বারের তুলনায় এবার খুলনার দাকোপের সর্বত্রই আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতি মধ্যেই আমন ধান কাটার ধুম পড়ে গেছে। কিন্তু বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এ বছর মোট ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপসি ১৮ হাজার ৭৮৫ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৩৯০ হেক্টর ও হাইব্রিড ৫৫ হেক্টর। বর্তমানে বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে সোনালি পাকা ধান। ধানের ভারে যেন নুয়ে পড়েছে বেশিরভাগ জমির ধান গাছ। ইতি মধ্যেই বেশির ভাগ জমির ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন সবচেয়ে ভাল হয়েছে। বিঘা প্রতি ধানের ফলন হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ মণ। তবে সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে উফসি ব্রি ধান ৮৭, ২৩, ১০৩, ১০, ও ৯৩, ৯৪ ও ৯৫ জাতের। এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষকের প্রধান ফসল আমন। কৃষকরা ধান বিক্রি করে সারা বছরের ধার দেনা শোধ করে, বাদবাকিঁ ধান বছরের খাবার যোগান দেওয়ার জন্য গোলায় মজুদ করে রাখে। এছাড়া ছেলে মেয়েদের গরম কাপড়, স্কুল-কলেজের খরচ ও জমির খাজনা পরিশোধসহ ধান বিক্রি করে সাধারনত সারা বছরের এ সকল ব্যায়ভার বহন করে কৃষকরা। কিস্তু ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
পানখালী এলাকার কৃষক নীল কোমল রায় বলেন, এবার তিনি ৬ বিঘা জমিতে ব্রি ১০ ২৩ ধানের চাষ করেছেন। এতে তার বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৫০ শতকের বিঘা প্রতি ধান পেয়েছেন ২৮ থেকে ৩০ মন। বাজারে ধানের দাম অনুসারে খরচ বাদে তার ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ থাকবে। তবে সার ও কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবারে উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে।
ধানের ব্যবসায়ী পানখালী এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, চালনা বাজারে বুধবার সাপ্তাহিক হাটে তিনি কৃষকের কাছ থেকে নতুন ২৩ ধান ১০৫০ থেকে সাড়ে ১১০০ টাকা মন, আর ১০ ধান ১১০০ থেকে সাড়ে ১১৫০ টাকা মন কিনেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যান্য বারের তুলনায় এবার আমনের খুব ভালো ফলন হয়েছে। তা ছাড়া পোকা মাকোড়ের এবং ইঁদুরের আক্রমনও অনেক কম ছিলো এবং সারের দামও অনুকুলে ছিলো। কৃষকরা আগের তুলনায় অনেক সচেতন হয়েছে বিধায় ভাল ফলন সম্ভব হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল আগাম জাতের ধানের ফলন অনেক বেশি হওয়ায় আগামী মৌসুমে এ ধানের আবাদ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।