ডেস্ক রিপোর্ট : ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়ের ভেতরে চলে এসেছে এমন মন্তব্য করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে তার শুরুটা বাংলাদেশ থেকে করা হয়নি। এটা দুঃখজনক। এটা দুই দেশের (বাংলাদেশ-ভারত) কারোর জন্য ভালো হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দেশের অর্থ-বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
আপনি বলছিলেন যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় সরকার। কিন্তু আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়া হলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে আইপিএল বাংলাদেশের সম্প্রচার বন্ধ হলো। এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘না না আমাদের এখানে কোনো প্রভাব পড়ে নাই। আজকের ক্রয় কমিটির বৈঠকে স্পোর্টস নিয়ে একটা শব্দ উচ্চারিত হয়নি।’
কোনো প্রভাব পড়বে কি না? সাংবাদিকের এমন পাল্টা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না আমি আমার দিক থেকে দেখছি না, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেটা দরকার এবং রেশনাল ওয়েতে আমরা যে ডিসিশন নিচ্ছি সেটা অর্থনীতির সঙ্গে, অ্যাটলিস্ট আমাদের ক্রয়ের ব্যাপারে কোনো প্রভাব পড়বে না।’
এটা শুধু অর্থ-বাণিজ্যের বিষয় না, পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয় আছে। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলে সালেহউদ্দিন বলেন, ‘পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। ফরেন অ্যাডভাইজার ছিলেন, তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।’
আপনি সেদিন বলেছিলেন ভারত প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের নির্বাচনের দুই মাস আগে এমন ঘটনা, রাজনৈতিক কি না? এ ধরনের প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আপনি প্রেক্ষিতটা দেখেন, শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ থেকে করা হয় নাই। এটা আপনি স্বীকার করবেন, শুরুটা বাংলাদেশ করেনি।
তিনি বলেন, একটা স্পোর্টস তাদের আমরা অ্যাম্বাসেডর বলি। মোস্তাফিজুর একজন ভালো প্লেয়ার, একটা বিখ্যাত প্লেয়ার। যারা নিয়েছে তারা পর্যালোচনা করেই নিয়েছে, তাকে তো দয়া-দাক্ষিণ্য করে নেওয়া হয়নি। ওরা সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেবে, একটা কারণে সেটা তো খুব দুর্ভাগ্যজনক। এটা সিকুয়েল যেটা হয়েছে, এগুলো আনফরচুনেট। আমি বলি এটা দুঃখজনক, এটা দুই দেশের কারও জন্য ভালো হয়নি।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি বলি এটা আর... করবে না। হিটলারের সময় তো অলিম্পিক হয়েছিল তাই না, পৃথিবীর লোকজন যায় নাই? হিটলারকে ঘৃণা করতে সবাই কিন্তু গিয়েছিল তো। আমার মনে হয় একটা ইমোশনের সঙ্গে কাজ হয়েছে, এটা দুইপক্ষ একটু বিবেচনা করে সমাধান হবে। আমরা চাই না কোনোভাবেই কিন্তু আমাদের সম্পর্ক রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই বলেন, আর অর্থ ক্ষেত্রে বলেন হ্যাম্পার হোক।
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এনবিআর দুই ভাগ করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি? এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হলো না, আপনি দেখেন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের মধ্যে হয় কি না। সব ফরমালিটিজ সম্পন্ন। ছোটোখাটো একটা জিনিস আছে, হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এটা হবে।