স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার রূপসায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান মোল্লা সাইফের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন অফিসে তালা ভেঙ্গে লুটপাট এবং ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবর দখল করে কয়েক কোটি টাকা অবৈধ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছেনা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের ঘটনা প্রচারের সাথে সাথে এই সাইফ মোল্লা স্থানীয় উঠতি বয়সী যুবকদের সাথে নিয়ে শুরু করে লুটপাট। ৫ আগস্ট রাতভর তিনি এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়ে মালামাল ও নগদ টাকা লুটপাট করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাইফুর রহমান মোল্লা ও তার সহযোগীরা গত ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত এলাকায় চিংড়ি ঘের দখল, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বাস মালিক সমিতিসহ লোভনীয় ইউনিয়নগুলো নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় তার দৃশ্যমান কোন বৈধ আয় না থাকলেও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লুট, ঘের, বাড়ি ও জমিজমা দখল করে তিনি বিপুল পরিমান টাকা আয় করেছেন। তার এ অপকর্মে স্থানীয় অসংখ্য মানুষ বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগষ্টের কয়েকমাস পর পূর্ব রূপসা ঘাটে টোল আদায় বন্ধ থাকলেও সাইফ মোল্লা তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে পূনরায় টোল আদায় শুরু করে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তাছাড়া ওই সময় রূপসা বাস মালিক সমিতির নির্বাচিত কমিটিকে বাইপাস করে নিজেই মনগড়া কমিটি করে পূর্ব রূপসা বাস স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী বাস থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে নিজেই পকেটস্থ করেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলেই দৈহিক নির্যাতনের শিকার হন অনেকেই।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দিনার আয়রন স্টোর থেকে ট্রাক ভর্তি আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার দামি ভাঙাড়ি সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের বিষয়টি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়া সাইফের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগও রয়েছে।
শুধু সাইফুর রহমান মোল্লা একানন, তার আপন ২ সহোদর রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান মোল্লা ও রূপসা-বাগেরহাট মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগ নেতা হারুন মোল্লা বিগত প্রায় ১০-১২ বছর ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসলেও তারা থেকে গেছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কারণ সাইফুর রহমান মোল্লা বিএনপি নেতা হওয়ার কারনে তিনি এই দুই ভাইকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, খুলনা জেলা যুবলীগের সদস্য ও খুলনা আন্ত:জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তার অপর ভাই হারুন মোল্লা ৫ আগষ্টের পর উক্ত ইউনিয়নের কোন হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে না দিয়ে ইউনিয়নের চাবিকাঠি তার ভাই বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান মোল্লার হাতে তুলে দিয়ে রূপসা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত তার কোন হদিস নেই বলে ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানিয়েছেন।
এমনকি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর ইচ্ছামত শ্রমিক ইউনিয়নের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট এক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত দাখিল কৃত কমিটিতে সাইফ মোল্লা’র কাছের মানুষ ইউনুস গাজী বাদে সকলেই আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী। যারা পূর্বে বিএনপি ও শ্রমিক দল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের উপর জুলুম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। যে কারনে শ্রমিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং দলের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ইউনুস গাজীকে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী খুলনা জেলা শ্রমিক দলের স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়।
এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন, বিএনপি একটি জনপ্রিয় রাজনৈতিক বড় দল। সেই দলের সম্মান ক্ষুন্ন করতে সাইফ মোল্লার মতো ব্যক্তিদের জন্য দলের ক্ষতি হতে পারে না। গঠণতন্ত্র অনুযায়ী সাইফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।
একইভাবে স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ করার না শর্তে বলেন, চান্দা ভাই খ্যাত সাইফ মোল্লা ৫ আগষ্ট থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত চাঁদাবাজি করে আসছে। তার ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। তবে লোকজনের মুখে মুখে সাইফ মোল্লার নাম এখন চাঁদা ভাই নামে উপাধি হয়েছে। তবে তার হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার রাতে রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমানের সেলফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, দলের কোন নেতা-কর্মী অনৈতিক বা অপরাধমূলক কোন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলে গঠণতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
#