সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা সহ সারাদেশে শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন । এতে বড় বিপদে পড়েছে ছিন্নামুলের খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের দাপটে আয় রোজগার না করতে পারায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে দেশের সব জেলার হতা-দরিদ্র মানুষের। বিশেষ উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা ,বাগেরহাট, পিরোজপুর ,ঝালকাঠি ,বরিশাল ,বরগুনা, পটুয়াখালী ,ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ,ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের উপকূলীয় নদী ও সাগর অবস্থিত থাকায় পানির হাওয়াতে শীতের তীব্রতা প্রবাল আকারে ধারণ করেছে। এতে বাইরে বের হতে পারছে না মানুষ ।হিমেল হাওয়া, ঘনকুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজের জন্য বের হচ্ছেন খুব কষ্টে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।
সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, শীত বাড়ার সাথে সাথে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভোলার নিম্ন আয়ের মানুষের জনজীবন। কয়েকদিন ধরে ভোলায় কনকনে বাতাস, ঘন কুয়াশা ও দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে আসা,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত।
, ভোলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১. ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২ কিলোমিটার। এ আবহাওয়া আগামী কয়েকদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শীতের তীব্রতা, ঘন কুয়াশা আর আকাশে মেঘ থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। বইছে কনকনে হিমেল হাওয়া,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি । প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে বের হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ আবার কাজ বন্ধ করে বসে আগুন পোহাচ্ছেন।
ভোলায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী উপকূলের ৩ লাখ বাসিন্দা। বিশেষ করে জেলে এবং কৃষকদের জীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। চারিদিকে কুয়াশা,গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর বাতাস থাকায় চরম ঠাণ্ডায় কাজে বের হতে পারছেন তারা। পাশাপাশি গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে জেলার ছিন্নমূল জনগোষ্ঠি।
এসময় ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী সংলগ্ন তুলাতলী এলাকার জেলে কামাল, অলি আহমদ জানান, গত কয়েকদিন ধরে কনকনে ঠান্ডায় তারা নদীতে মাছ শিকার করতে যেতে পারছে না। তীরে বসে জাল বোনার পাশাপাশি আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
একই উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা কৃষক বারেক, মারেক জানান, প্রচন্ড ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের মাঠে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। মাটিতে পা দিতেই ঠান্ডায় হাত পা বেকা হয়ে যাচ্ছে এতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। তীব্র শীতে একদিকে যেমন তাদের কাজের ব্যাঘাত ঘটছে অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ফসলের চারা গাছ।
উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ৬৫ বছরের বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম জানান, গত কয়েক দিনের শীতে আমরা কাবু হয়ে গেছি। আমাদের শীতের সম্বল ছেঁড়া কাঁথা। সরকারি কোন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি না। এ দিয়ে কোন মতে শীত পার করছি।
ভোলা জেলা প্রশাসক ড. শাশীম রহমান জানান প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে ৮ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে আরো বরাদ্দ পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে জেলার খেটে খাওয়া মানুষের শীতের কষ্ট লাঘবে জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার পাশাপাশি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
ঘন কুয়াশা সঙ্গে কনকনে শীত। হিমেল বাতাসে জবুথবু জনজীবন। শীতের এই দাপটে শহর-গ্রামে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। তবে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। পেটের দায়ে শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমজীবীরা। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এছাড়া ঘন কুয়াশায় ঝুঁকি এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন। অপরদিকে বেড়েছে সর্দি-কাশিসহ শীতজনিত নানা রোগ।
এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার ও যশোরে দেশের সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে এই মৌসুমে চারদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে। যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুই দিনই এই তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন। এছাড়া বরিশালে ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ২ ডিগ্রী নিচে নেমেছে। কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বাতাসে আদ্রতা ৯৯%। চুয়াডাঙ্গায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।
এদিকে বরিশাল, ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ২ ডিগ্রী নিচে থাকায় বরিশালে স্বাভাবিক জনজীবনে বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। গতকাল আকাশে সূর্যের দেখা মেলে সকাল সাড়ে ১০টার পরে। তবে কুয়াশার পুরো দাপট অব্যাহত ছিল সকাল ১১টা পর্যন্ত। দুপুর প্রায় সোয়া ১২টা পর্যন্ত মাঝারী কুয়াশায় ঢেকে ছিল। ফলে দৃশ্যমান ৫ মিটারে সীমাবদ্ধ থাকায় বরিশাল বিমান বন্দরে সকাল সোয়া ১০টার বিমান ফ্লাইট দুপুর দেড়টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে দুপুর ২টায় বরিশালে পৌঁছে। কুয়াশা আর মেঘের কারণে বরিশাল সেক্টরে গত রোববারের বিমান ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও এর একটি বর্ধিতাংশ বরিশাল উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। কাল রোববার দিনের তাপমাত্রার প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়ে রাতে সামান্য বৃদ্ধির কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ। তবে আগামি সোমবার থেকেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কমতে শুরু করবে এবং পুরো সপ্তাহ জুড়েই তাপমাত্রা নিচে নামার সম্ভাবনার কথা বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
এদিকে গত দিন দশেকের শীতের দাপটে বরিশালে ঠা-াজনিত রোগের প্রকোপও ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়াসহ ঠা-াজনিত রোগী ভর্তির সংখ্যা ১০ হাজার অতিক্রম করেছে। প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগেও বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ইনডোরের রোগী নিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক।
এদিকে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ জুড়ে শেষ রাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরীর শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। ঘন কুয়াশা ও হীমশীতল ঠা-ায় ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সন্ধ্যা থেকে পলিথিন দিয়ে বোরো বীজতলা ঢেকে রাখার পরামর্শ দিলেও গোল আলুর মাঠে ছত্রাকবাহী ‘লেট ব্লাইট’ রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ দুরুহ হয়ে পড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্তর দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু লাগাতার শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরীর নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষিবিদগণ। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে যে গোল আলুর আবাদ হচ্ছে, তা ‘লেট ব্লাইট’ নামের এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবারও শঙ্কাও ক্রমশ বাড়ছে।
তবে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে, শীতের দাপটে তার ফলন বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ টন বারো চাল, ৩ লক্ষাধিক টন গোল আলু ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদেনর লক্ষ্য রয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে শীত। দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে আসায় জেলাজুড়ে শীতের দাপট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে শীত এখন আর মৌসুমি দুর্ভোগ নয়, এটি রূপ নিয়েছে এক গভীর মানবিক সঙ্কটে।
জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, গতকাল সোমবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বাতাসে আদ্রতা ৯৯%। আগের দিন ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি। উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে প্রকৃত শীতের অনুভূতি আরো বেশি হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। গতকাল সকাল থেকে বেলা সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলা শহরে সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল চারদিক। সড়কে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে। কুয়াশা আর কনকনে ঠা-ায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দুঃস্থ পরিবার ও শিশুদের অভিভাবকরা।
কুয়াশার কারণে চিলমারী-রৌমারী-রাজিবপুর নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদে চলাচলকারী নৌযানগুলো সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। নদীপাড়ের চরাঞ্চলে মানুষের কষ্ট যেন সীমা ছাড়িয়েছে। তবুও পেটের দায়ে শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন শ্রমজীবীরা। মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরাও। ঠা-ায় হাত-পা অবশ, তবু কাজে না গেলে না খেয়ে থাকতে হবে।
রাজিবপুর উপজেলার চর মোহনগঞ্জ এলাকার দিনমজুর মকবুল হোসেন বলেন, ভোরে কাজে বের হতে শরীর কাঁপে। হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কিন্তু কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। একটা কম্বল থাকলেও মাঠে নামা যায় না। একই এলাকার গৃহবধূ সাহিদা বেগম বলেন, শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে ভয়। সকালে এত ঠা-া যে ওদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। গরম কাপড় নেই, সরকারিভাবে কম্বলও সবাই পায়নি।
৪০ হাজার মানুষের জন্য মাত্র ১৮০ কম্বল!
রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন মোহনগঞ্জ ইউননিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় ৫১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ইউনিয়নে বসবাস করছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
তিনি বলেন, গত সাত দিন ধরে শীতের তীব্রতা চরমে। সরকারিভাবে মাত্র ১৮০টি কম্বল পেয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। শুধু কম্বল নয়, মানুষজনের সোয়েটার, চাদর ও ট্রাউজারেরও জরুরি প্রয়োজন। শীতার্ত মানুষের দাবি, মাঠে ও বাইরে কাজ করার উপযোগী শীতবস্ত্র দ্রুত সরবরাহ না করা হলে তাদের দুর্ভোগ আরো ভয়াবহ আকার নেবে।
শীতের তীব্রতা বাড়লেও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডেও অতিরিক্ত চাপ নেই। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ বলেন, শীতে শিশুদের বাড়তি যতœ জরুরি। কুয়াশায় শিশুদের বাইরে বের করা উচিত নয়। অনেক গ্রামাঞ্চলে ঘরের ভেতর খড় জ্বালিয়ে উত্তাপ নেওয়া হয়, যা শিশুর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুদের গরম কাপড় পরিয়ে নিরাপদে রাখতে হবে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। শীতের এই তীব্রতায় অবিলম্বে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ ও মানবিক সহায়তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের শীতার্ত মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আবহাওয়া অফিস জানান, চুয়াডাঙ্গায় ঠা-া বাতাসে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। জেলায় বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। ছয় দিন পর জেলায় সূর্যের দেখা মিলেলেও সূর্যের ক্ষীণ তাপ কাজে আসছে না। শৈত্য প্রবাহের মাত্রা বেশি হওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। দিন মজুররা কাজের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের খাদ্যাভাব দূর করার জন্য এখন পর্যন্ত কেউ সাড়া দেয়নি। নিম্নমানের কম্বল বিতরণ করেই অনেকে দায় সাড়ছে।
বয়োবৃদ্ধ রিকশা চালক ইলিয়াস জানান, শীতের আগে রিকশা নিয়ে বের হলে আয় রোজগার ভালই হতো। এখন খুবই দূরাবস্থা। শীতে কেউই রিকশায় চড়ছে না। সে কারণে একেবারে ভাড়া হচ্ছে না। রিকশা চালিয়ে আয় রোজগার করে সংসার চালায়। এখন আয় রোজগার নেই, মানুষের কাছে হাত পাততে লজ্জা করছে।
দিন মজুর আরমান আলী চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরের একপাশে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি জানান, খুব শীতের কারণে বেশ কদিন হলো কেউ তাকে কাজে নিচ্ছে না। নিদারুণ কষ্টে দিন চলছে। গ্রামের দোকান থেকে দোকানদার আর বাকী দিচ্ছে না। তার কষ্টে কেউ এগিয়ে আসেনি।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এ দিন সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। উত্তরের হিম শীতল বাতাস, ঘন কুয়াশা আর মেঘাচ্ছন্ন আকাশের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আগামী দুদিন এমন আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় টানা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাপমাত্রা কিছুটা ওঠানামা করলেও বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশা থাকার কারণে শীতের তীব্রতা আরো বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।
গতকাল ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত উপজেলার সড়ক, মাঠ-ঘাট ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। এতে দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ঝুঁকি এড়াতে অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। টানা কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে অনেক মানুষ সকালে স্বাভাবিক সময়ে কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারণের জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
হেরা পটকা এলাকার কৃষক রহমত আলী বলেন, সকালে কাজে বের হতে পারছি না। কুয়াশায় হাত-পা জমে যায়। আগুন না পোহালে শরীর চলে না। এই শীতের হাত থেকে রেহাই পায়নি গরু ছাগলও। এই তীব্র শীতে বেড়ে গেছে গরু-ছাগলের রোগ বালাই। বাউনি এলাকার কৃষিশ্রমিক রবিউল জানান, ভোরে কাজে যেতে দেরি হচ্ছে। ঠা-ায় কাজ করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে হাড় কাঁপানো ঠা-ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষ এসব রোগে বেশি ভুগছেন।
এদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বাড়ছে। হাসপাতালে আসা আহসান নামে এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানের কয়েক দিন ধরে জ্বর ও সর্দি। গ্রামের ডাক্তার দেখিয়েও ভালো হয়নি, তাই হাসপাতালে এনেছি। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শীতকালে শিশুদের বাড়তি যতœ নিতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের বাইরে বের করা উচিত নয়। কুয়াশা ও ঠা-া থেকে শিশুদের দূরে রাখতে হবে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় আগামী কয়েক দিন সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকতে পারে এবং শীতের অনুভূতিও অব্যাহত থাকতে পারে। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে ভোরে যানবাহন চালানোর সময় হেডলাইট ও সতর্ক সংকেত ব্যবহার করার জন্য চালকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণের উপকূলীয় এলাকা সবখানেই একযোগে জেঁকে বসেছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া আর সূর্যের অনুপস্থিতিতে স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কোথাও মৌসুমের সর্বনিম্ন, কোথাও আবার স্মরণকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এক দিনের ব্যবধানে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে গেছে।
এই শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, জেলে ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। কাজ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার খাদ্য সংকটে পড়েছে। শীত নিবারণের জন্য কেউ খড়কুটো জ্বালাচ্ছেন, কেউ আগুন পোহাচ্ছেন, আবার কেউ ফুটপাত থেকে পুরোনো গরম কাপড় কিনে কোনোমতে দিন কাটানোর চেষ্টা করছেন।
শীতের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কোথাও কোথাও মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেও রোগীর জায়গা হচ্ছে না। চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতি না থাকলেও রোগীর চাপে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। বোরো ধানের বীজতলা, গোল আলু ও শাকসবজির আবাদ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী শীত থাকলে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে গমের উৎপাদনে এই শীত সহায়ক হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন কৃষিবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সামনে আবার ঠান্ডা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে’র প্রতিবেদনে-
রাজশাহী, হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত রাজশাহী। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় কাবু এই জনপদের লোকজন। গতকাল সোমবার সকালে জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক রাজিব খান জানান, আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি।
গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই রাজশাহীতে হিমেল হাওয়ার দাপট বেড়েছে, যার ফলে তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উত্তরের এই ঠান্ডা বাতাস আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে গত তিন দিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলেনি। কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে করে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ। খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেককে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
বরিশালে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ ৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি নিচে নেমে সোমবার সকালে স্মরণকালের সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে স্থির হয়। তবে বরিশালের সন্নিহিত এলাকায় তাপমাত্রা সাড়ে ৮ ডিগ্রিতেও নেমে গেছে। আর বরিশালের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের গোপালগঞ্জে বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে শৈত্যপ্রবাহের দাপটে বরিশালসহ সন্নিহিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখন সব বর্ণনার বাইরে। সুস্থ জনজীবন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কবলে।
আজ সকাল থেকে মেঘ ও গত কয়েক দিনের কুয়াশা সরে সূর্যের দেখা মিললেও হালকা কুয়াশার কারণে রোদের তেমন তেজ ছিল না। ফলে বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের প্রায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি নিচে, ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে শনিবার তা অপরিবর্তিত থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনে আবার তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে।
এদিকে, শেরপুর থেকে জানান, শেরপুরে টানা ৭ থেকে ৮ দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। এর সঙ্গে হিমেল বাতাসে কাহিল হয়ে পড়েছে শেরপুরসহ গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তবর্তী জনপদের সব বয়সী মানুষ। প্রচ- ঠান্ডায় মানুষ কাজে যেতে পারছে না। ফলে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। জবুথবু হয়ে পড়েছে গারো পাহাড়সংলগ্ন এলাকার মানুষসহ প্রাণিকুল।
গত ৭/৮ দিন ধরে প্রতিদিনই ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে শেরপুরের আকাশ। হঠাৎ কোনো দিন দুপুরের দিকে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঁকি দিলেও তেজ নেই একেবারেই। ফলে জড়োসড়ো থাকতে হচ্ছে মানুষসহ গবাদিপশু ও পাখিদের। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে গারো পাহাড়ি জেলা শেরপুর অঞ্চলে যেন জেঁকে বসেছে প্রচ- শীত। ৭/৮ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু হয়ে পড়েছে জেলার উত্তর জনপদের মানুষসহ প্রাণিকুল।
ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ গরম কাপড়ের অভাবে চরম বিপাকে পড়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন হতদরিদ্র মানুষ। ৭/৮ দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় দুর্ভোগ আরও বেড়েই চলেছে। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে রয়েছেন গারো পাহাড় ও চরাঞ্চলের হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। রাতের পাশাপাশি দিনের অধিকাংশ সময় ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে আকাশ। ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। অব্যাহত ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ও আলুর আবাদ নিয়ে কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ৭/৮ দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। কোথাও দেখা গেলেও তা অল্প সময়ের জন্য।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার সঙ্গে প্রচ- হিমেল বাতাসে দিনের বেলাতেও মানুষ কাজকর্ম করতে পারছে না। দিন-রাত ঘরে গায়ে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই আগুনের তাপ নিয়ে গা গরম করছেন। প্রচ- ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ। ফলে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। খড়কুটো জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
ঠান্ডায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু ও বৃদ্ধ। বৃদ্ধরা হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে এবং শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। শীতের তীব্রতায় সপ্তাহখানেক ধরে শেরপুরে মানুষের চলাচল কমে গেছে। কমেছে যানবাহন চলাচলও। ঘন কুয়াশায় রাস্তায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। শীতজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
সন্ধ্যা নামতেই হাট-বাজারগুলো ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সন্ধ্যার পর কেউ বাড়ির বাইরে থাকছেন না। গারো পাহাড় সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিনাইগাতীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই হতদরিদ্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, এতিমখানা, মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জানা গেছে, মজুদ কম্বলের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অবিলম্বে পর্যাপ্ত কম্বলসহ শীতবস্ত্র বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝিনাইগাতীর সাবেক এমপি এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকালে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে চলতি মৌসুমের অন্যতম শীতল দিন। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। কাজের অভাবে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
শীতের তীব্রতায় জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) উপজেলা হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকেই শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকে। গতকাল সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যায়, ব্যাহত হয় যান চলাচল। স্থানীয়রা জানান, ভোরের দিকে কনকনে ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে।