প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ১১:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর জুড়ে সরিষা ও রাইয়ের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের ভোজ্যতেলের অন্যতম প্রধান উপাদান সরিষা। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় এ বছর বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে সরিষা ও রাই সরিষার ফলন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা—আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালি, সদরপুর, মকসেদপুর, কাজিয়ানি—এবং পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলায় ব্যাপক আকারে সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর দোআঁশ মাটি ও কৃষকদের পরিশ্রমের ফলে এবার ফলন হয়েছে বাম্পার।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অঞ্চলে সাধারণত তিন প্রকার সরিষার চাষ হয়ে থাকে—সাদা সরিষা, রাই সরিষা এবং ক্যানাডা বা হাইব্রিড সরিষা। এসব জাতের সরিষা চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলনের পাশাপাশি লাভজনক বাজারমূল্য পাচ্ছেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষক মোঃ শাহাবুদ্দিন মোল্লা জানান, প্রতি একর জমিতে ভালো ফলন হলে ১৮ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত সরিষা পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারদরে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন, “আমাদের এলাকার জমি কখনো খালি থাকে না। সরিষা কাটার পর ধনিয়া ও অন্যান্য শাকসবজি চাষ করা হয়, এরপর পাটের মৌসুম আসে। সারা বছর জমিতে ফসল থাকায় আমাদের উৎপাদন ও আয় দুটোই ভালো হয়।”
কৃষকদের মতে, বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলসহ পাশের জেলা মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ীর জমিগুলো দোআঁশ মাটির হওয়ায় সরিষা ও পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে পাট মৌসুমে প্রতি একর জমিতে ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়ে থাকে, যা কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের আশা, কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় থাকলে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের কৃষকরা আগামী বছরগুলোতেও আরও বেশি জমিতে সরিষা ও রাই চাষে আগ্রহী হবেন। এতে একদিকে যেমন ভোজ্যতেল উৎপাদনে দেশের নির্ভরতা বাড়বে, অন্যদিকে কৃষকের জীবনমানও আরও উন্নত হবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত