তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের শিরাশুনী ডায়ের বিল থেকে জমির মালিকদের আপত্তি উপেক্ষা করে বালু উঠিয়ে বিক্রয় করছে একটি চক্র। ফুঁসে উঠেছে জমির মালিক সহ এলাকাবাসী। যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) সকাল থেকে এই বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। জাকির হোসেন নামে এক সরকারী কর্মকর্তার নির্দেশে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশ্ববর্তী জমির মালিকরা আপত্তি করলেও মানছে না তারা। সম্পূর্ণ গায়ের জোরে ঐ কর্মকর্তার নির্দেশে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করছে। বিগত সরকারের আমলে এই কর্মকর্তা এমপি স্বপনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল। সরকার পরিবর্তনের পরে অন্য এক দলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে এলাকায় অত্যাচার শুরু করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
গত কয়েকদিন আগে তালার হরিহরনগর বিল থেকে বালু উঠানো মেশিন জব্দ করে এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা প্রশাসন। এতে তালা উপজেলাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিলো যে, এ উপজেলায় কোনো অনিয়ম দূর্ণীতি হবে না। মানুষের সে বিশ্বাস কয়েক দিনের মধ্যে ম্লান করে এক সরকারী কর্মকর্তার প্রকাশ্য মদদে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে পার্শবর্তী জমির মালিক আব্দুর রশিদ, জামাল মোড়ল সহ অনেকেই বলেন, তালার শিরাশুনী গ্রাম প্রতিবছর বর্ষাকালে ৫ মাস পানিতে তলিয়ে থাকে। রাস্তাঘাট, ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। এই এলাকা থেকে এভাবে বালু উঠালে আমরা বসবাস করতে পারবো না। এই গ্রামের সরকারী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জোর করে বালু উঠাচ্ছে। শিরাশুনী গ্রামের ছবেদ আলীর ছেলে বাবুল আক্তার ও খালেকের ছেলে আব্দুল লতিফ লিটন মেশিন দিয়ে বালু উঠাচ্ছে। এই জমি থেকে জাকির হোসেন আগেও বাড়ি করার সময় বালু তুলেছিলো। আগে বালু তেলার কারণে এই বিলে কোনো ফসল হয় না। গত ১০-১২ বছর বালু না উঠানোই বিল একটু একটু উঁচু হতে শুরু করেছে। এভাবে থাকলে ২-৩ বছর পরে ফসল করা যাবে। তব আবার বালি তুললে আর কখনো এই জমিতে ফসল হবে না।
তারা বলেন, এই বালু ব্যবসায়ী চক্র প্রায় ৬ মাস ধরে বালু তুলে বিক্রি করছে। প্রশাসন দেখেও দেখে না। এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বররাও কখনো এদের বাঁধা দেয় না। আমাদের মনে হয় উপরের কর্মকর্তাদের সাথে এদের যোগাযোগ আছে বলে জানান তারা।
তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান বলেন, জমির মালিকরা আমার কাছে অভিযোগ করেছে। গত ৩-৪ দিন আগে হরিহরনগর থেকে ২টি মেশিন উঠানো হয়েছে। এসিল্যান্ড সাহেব কে এই জায়গা থেকে মেশিন উঠিয়ে আনতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।