যশোর প্রতিনিধি : যশোরে পৃথক দুটি ঘটনায় চুরির সময় গণপিটুনিতে একজন এবং গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রথম ঘটনায়, যশোর শহরতলীর রামনগর এলাকায় চুরির চেষ্টা করতে গিয়ে গণপিটুনিতে শামিম (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ২টার দিকে যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বলাডাঙ্গা শ্রীকান্তনগর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম ওই এলাকার ছবদুলের ছেলে। পুলিশ জানায়, তিনি মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবনের জন্য টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে শামিম স্থানীয় আরাফাত হোসেনের বিকাশের দোকানের সামনের দরজার পাল্লা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকান মালিক ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে সিসিটিভি ক্যামেরায় দোকানের ভেতরে একজনকে দেখতে পান। পরে তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে শামিমকে ধরে মারধর করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় দোকান মালিক ও স্থানীয় ৫–৬ জনের সহযোগিতায় শামিমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম সফি (৩৫) নামের এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার ইচানী গ্রামের একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শফিকুল ইসলাম সফি ওই গ্রামের কেতাব উদ্দিন মোড়লের ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন।
মৃতের স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বুধবার গভীর রাতে শফিকুল ইসলাম জমিতে সেচ দিতে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি বাড়ি ফিরে ফজরের নামাজ আদায় করবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে সকালে তিনি বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গ্রামের লোকজন মাঠের পাশের একটি বাগানে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
স্বজনদের দাবি, সেচ দেওয়া নিয়ে পাশের গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে শফিকুল ইসলামের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তবে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।