ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৭১-এর মতো তারাও মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের কষ্ট লাঘবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মতো আরেকটি বিভাগ তৈরি করা হবে। জুলাইয়ে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে এটা স্রেফ গণহত্যা।
আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এই প্রতিশ্রুতি দেন।
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছিলেন, এ দেশের স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে চব্বিশে যে যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘একাত্তরে যুদ্ধ হয়েছে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার। সেই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আবার চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে।’
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই ফ্যাসিবাদী শাসক দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, চব্বিশের আন্দোলন কোন ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়। এটা ছিল অধিকার আদায়ে জনগণের আন্দোলন। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় তাদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে না পারলে আগামীতে এমন শোকসভাই করতে হবে। তাই আসুন- আর কোন শোকসভা নয়, জনগণের বিজয়গাঁথা রচনা করি।
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিএনপির প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনে সরকার গঠনের সক্ষম হলে এই শহীদ পরিবার যাঁরা আছেন, জুলাই যোদ্ধা যাঁরা আছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার বা যোদ্ধা যাঁরা আছেন, তাঁদের কষ্টগুলোকে কিছুটা হলেও যাতে আমরা সমাধান করতে পারি। যারা হারিয়ে গেছে, তাদের তো আমরা ফিরে পাব না। কিন্তু সেই পরিবারের কষ্টগুলো বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা যাতে দেখভাল করতে পারি, এই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আমরা আরেকটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব। তাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা।’
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানও।