শ্যামনগর প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে ভূমির রেকর্ড সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার ও আপিল অফিসার গাজী মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুদক খুলনার উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ মহসীন আলী বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গাজী মনিরুজ্জামান শ্যামনগরে কর্মরত থাকাকালে বিভিন্ন মৌজায় আইনের তোয়াক্কা না করে একাধিক অনিয়ম করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবৈধ শুনানি ও রায়, ৮০নং ধুমঘাট মৌজার একটি আপিল কেসে নিয়মবহির্ভূতভাবে শুনানি গ্রহণ এবং রায় প্রদান। পক্ষভুক্তিতে জালিয়াতি, ১০৭ নং আটুলিয়া মৌজার একটি আপিল কেসে বিধি লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মোর্তজা কামাল নামক এক ব্যক্তিকে ২নং আপিলকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত করা। নথি টেম্পারিং, ৮১নং হরিনগর মৌজার একাধিক আপিল কেস নিষ্পত্তিতে জাবেদা নকল সরবরাহ রেজিস্টার (সিপি রেজিস্ট্রার) ঘষামাজা, কাটাকাটি ও টেম্পারিং করা।
প্রতারণা, ভিন্ন মৌজার আপত্তির দরখাস্তের বিপরীতে সংশ্লি¬ষ্ট মৌজার নকল সরবরাহ দেখিয়ে ভুয়া সিপি নম্বর ব্যবহার করে সরকারের রেকর্ড জালিয়াতি করা।এসব ধারায় প্রতারণা, মূল্যবান জামানত জালিয়াতি, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নথি প্রস্তুত এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শাস্তির বিধান রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে গাজী মনিরুজ্জামানকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হলেও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তকালীন এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাথে অন্য কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির সংশ্লি¬ষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে শ্যামনগর এলাকায় সেটেলমেন্ট অফিসের এই বিশাল অনিয়ম ও মামলার খবরে সাধারণ ভূমি মালিকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান বাবলা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।