ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : টেকসই নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা (SRBM): দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনকে অভিযোজিত করা
উত্তরণ ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির আয়োজনে
রবিবার ২৫জানুয়ারি সকাল ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলা শেখ আব্দুল মজিদ মিলনায়তনে উপজেলা পানি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি ডাঃ মোহাম্মদ আলী খান,
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মনোজ কান্তি রায়,বিশেষ অতিথি অধ্যাপক হাসেম আলী, বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, উপজেলা পানি কমিটির সহ-সভাপতি জিএম আমানুল্লাহ, চুকনগর পানি কমিটির সভাপতি এসএম রুহুল আমিন, উপজেলা পানি কমিটির প্রচার সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহ, জি এম ফিরোজ আহমেদ, পানি কমিটির সদস্য মোঃ শাহজাহান জমাদার,পানি কমিটির সদস্য আজিজ আকুন্জি, পানি কমিটির সদস্য শিবপ্রসাদ, মোঃ কবিরুল ইসলাম, প্রমুখ।
ডুমুরিয়া উপজেলার বৃহত্তর বিল ডাকাতিয়া অঞ্চল দীর্ঘ প্রায় ৪০ বৎসর যাবত জলাবদ্ধ কবলিত একটি এলাকা। এলাকাটি ২৫, ২৭ ও ২৮ নং পোল্ডারের অন্তর্গত। যার আওতায় রয়েছে প্রায় ২৭০০০ হেক্টর এলাকা এবং এলাকার উপর নির্ভরশীল অধিবাসীর সংখ্যা হবে সাড়ে তিন লক্ষ। প্রশাসনিক দিক থেকে বিল ডাকাতিয়া ভুক্ত ডুমুরিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলো হলো রংপুর, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, গুটুদিয়া ও ডুমুরিয়া ইউনিয়ন।
দীর্ঘকাল জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ এলাকা বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে এবং ফসল চাষাবাদ ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। যার কারণে এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মানুষ-জন অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকার মানুষ অবর্ননীয় দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিল ডাকাতিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রধান দুটি নদী যথাক্রমে হামকুড়া ও আপার শৈলমারী নদী। বিগত ১৯৬০ এর দশকে এ দুটো নদীর উপর সলুয়া, আমভিটা ও থুকড়ায় সুইসগেট নির্মানের মাধ্যমে বিল ডাকাতিয়ার প্লাবন ভূমি থেকে উক্ত নদী দুটিকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। যার ফলে নদীর জোয়ার-ভাটা হামকুড়া ও আপার শৈলমারী নদীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। জোয়ারে আগত পলি দ্বারা ১৯৮০ দশকের প্রথম দিকে এ নদী দুটি ভরাট হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
১৯৮০ দশকের শেষের দিকে দুইসগেট নির্মাণ, নদী ও খাল খনন প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক 'খুলনা উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন প্রকল্পের' আওতায় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে এ প্রকল্প জনগণের বিরোধিতায় প্রকল্পটি প্রত্যাহার করা হয়। জনগণ নিজেদের উদ্যোগে ১৯৯১ সালে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে উপকূলীয় বাঁধ কেটে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি চালু করে। এ কার্যক্রমে হামকুড়া নদী ব্যাপকভাবে প্রশস্ত ও গভীর হয়, পলি জমে বিল উঁচু হয় এবং বিশাল বিল ডাকাতিয়া এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু এ কার্যক্রম ছিল অপরিকল্পিত যার ফলে বিল তীরবর্তী বিভিন্ন নীচ বসতি এলাকা প্লাবিত হয় এবং লবণাক্ততার প্রকটতা বৃদ্ধি পায়। যার কারণে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কাটপয়েন্ট বেঁধে দিয়ে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি বন্ধ করা হয়। জনগণের দাবী ছিল, বিলের চারিধারে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং জোয়ারে আগত পলি দূরবর্তী এলাকায় পৌঁছানোর জন্য প্রধান খালের দু'পাশে বাঁধ দেওয়া কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ দাবীর প্রতি কোন কর্ণপাত করেনি।
বিল ডাকাতিয়া এলাকার জলাবদ্ধ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে 'খুলনা যশোর নিষ্কাশন পুনর্বাসন প্রকল্পের' (কেজেডিআরপি) আওতায় আপার শৈলমারীর নিম্নে ১০ ভেন্ট সুইসগেট নির্মাণ করে আপার শৈলমারী নদী বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং হামকুড়া অববাহিকা এলাকার পানি নিষ্কাশন শৈলমারী সুইসগেটের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে হামকুড়া অববাহিকার মধুগ্রাম অথবা মাধবক্যাট বিলে জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি চালুর জন্য জোর দাবী জানানো হয়। কেজেডিআরপি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একমত পোষন করে এবং জোয়ার-ভাটা পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
অনুষ্ঠান সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন উত্তরণ প্রতিনিধি জিলিপি কুমার সানা।