ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খুলনা-৫ (ডুমুরিয়াফুলতলা) আসনে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক চিত্র। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন এক সময়ের জোট সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা। জলাবদ্ধতা, কৃষি ও শিল্প সংকটের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তাড়াব মিলিয়ে এই আসনের ভোটের সমীকরণ হয়ে উঠেছে জটিল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি এবং ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৭০ জন। আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৮৪৫টি।
এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)'র চিত্তরঞ্জন গোলদার কান্তে প্রতীক এবং জাতীয় পার্টির শামীম আরা পারভীন (ইয়াসমিন) লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থীরা উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বিএনপির প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেন, এলাকার কৃষিপণ্য ও চিংড়ি সরাসরি বাজারজাত করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে এবং শিরোমনি শিল্প এলাকার বন্ধ জুটমিল চালু হলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে বলেন, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্লান প্রয়োজন। সরেজমিনে দেখা গেছে, এলাকাটি বর্তমানে তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘরানার ভোটার ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা চাপ ও ভয়ভীতির মুখে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। খুলনা-৫ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এখানে জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারলেই এই আসনে বিজয়ের পাল্লা ভারী হবে।