দীর্ঘ সময় তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয়তার কারণে তাকে সইতে হয়েছে অমানবিক জেল-জুলুম। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে শতাধিক রাজনৈতিক মামলা। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিগত দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ও তার পরিবার অসংখ্যবার হয়রানির শিকার হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি।
জিলানীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায় ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস। গোপালগঞ্জে একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে তার গাড়িবহরে পৈশাচিক হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শওকত আলী দিদার নির্মমভাবে প্রাণ হারান। জিলানী নিজে এবং তার স্ত্রী রওশন আরা রত্ন গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন।
২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময়ও তিনি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ছিলেন। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অনেক সময় তাকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী মাঠে নামতে দেখা গেছে। ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও, ২০২৬ সালে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৬০ হাজার ৯৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৩৯ ভোট।
এটি কেবল তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং গোপালগঞ্জের মাটিতে বিএনপির প্রথম সংসদীয় বিজয়।
বিজয় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এস এম জিলানী বলেন এই জয় কোনো ব্যক্তি জিলানীর জয় নয় এটি টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ার অবরুদ্ধ মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জয়। দীর্ঘ সময় ধরে যে ভয়ের সংস্কৃতি এখানে ছিল, মানুষ আজ ব্যালটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, বরং সবাইকে নিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ জনপদ গড়তে চাই।
টুঙ্গিপাড়ার স্থানীয় এক ভোটার ডা. জাফোর বলেন, আমরা এমন একজন নেতা চেয়েছিলাম যিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হবেন। জিলানী সাহেব অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ এখানে এসেছেন, আমরা তার কাছে এলাকার সুশাসন ও উন্নয়ন প্রত্যাশা করি।
উচ্চশিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এস এম জিলানী ব্যক্তিগত জীবনে প্রচারবিমুখ। তৃণমূল কর্মীদের সাথে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। তার স্ত্রী রওশন আরা রত্নও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এবং গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার মাধ্যমেই মূলত তার জাতীয় নেতৃত্বের ভিত মজবুত হয়।
তখনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে কেন্দ্র তাকে গোপালগঞ্জে বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।