
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে সরকারি অর্থায়নে ইটসোলিং সড়ক নির্মাণ কাজে জমির মালিকদের আপত্তির মুখে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রয়েছে। বাগধা পচ্চিম পাড় খেলার মাঠ সড়কের দুর্গা মন্দির থেকে ফজেল মাস্টারের বাড়ি হয়ে বাগধা জয়রাম পট্টির পাকা সড়ক পর্যন্ত ৭ ফুট চওড়া ইটসোলিং নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ইউনিয়ন পরিষদ সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও কাজের প্রাথমিক পর্যায়েই ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে আপত্তি তোলেন জমির মালিক মোঃ ফজলুল হক সরদার (ফজেল মাস্টার)। তিনি অভিযোগ করেন, সড়কটি পাকা করার ফলে তার প্রায় ৫ থেকে ৭ কাঠা মূল্যবান জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ফজলুল হক সরদার বিষয়টি নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন ও আগৈলঝাড়া থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান। প্রথম দিকে আরও কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক তার সাথে থেকে প্রতিবাদ করেন। যেমন নিকুঞ্জ বাড়ৈই, আব্দুল মতিন, ধীরেন বাড়ই, নিখিল পাইক, অখিল পাইক ও জগদীশ ঘরামী সহ কয়েকজন তার সাথে সড়ক নির্মাণে আপত্তি জানালেও বর্তমানে তারা নীরব রয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের চাপ ও ভয়ভীতির কারণে অন্যরা মুখ খুলছেন না। তবে তিনি একাই নিজের জমি রক্ষায় অবস্থান নিয়েছেন।
ফজলুল হক সরদার বলেন,
“সড়কটি স্থানীয়দের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয়—এ বিষয়ে আমার আপত্তি নেই। এতদিন মানুষ হেঁটে চলাচল করেছে, আমি বাধা দিইনি। কিন্তু এখন পাকা সড়ক নির্মাণের ফলে আমার প্রায় ৫ থেকে ৭ কাঠা জমি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাবে এটি কোনও ভাবেই মেনে নিবো না । আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসন বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, তারা আমার ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সহায়তা করবেন।”
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাজ স্থগিত রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা: শান্তিপূর্ণ সমাধান
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটি এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। তাই তারা দ্রুত একটি সমঝোতার মাধ্যমে কাজ পুনরায় শুরুর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় জমি মালিক ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে এবং জনস্বার্থে সড়ক নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা এখন মূল প্রশ্ন
এ ঘটনায় একদিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অধিকার, অন্যদিকে জনস্বার্থে অবকাঠামো উন্নয়ন—এই দুই বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা জানানো হবে।
Like this:
Like Loading...
Related