
প্রিন্স মাহমুদ, কুষ্টিয়া : অনুকূল আবহাওয়া ও অধিক লাভের সম্ভাবনায় গত বছরের তুলনায় এবার অধিক পরিমাণ জমিতে বেড়েছে পেঁয়াজ বীজের চাষ । ‘কালো সোনা’ খ্যাত এই পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন ও কদম পেঁয়াজ বিক্রি করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা ।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কুমারখালীর প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে । গত অর্থবছরের তুলনায় এবার চাষের জমি বেড়েছে প্রায় ২০ হেক্টর । মূলত গত বছরের ভালো দাম এবং সরকারি প্রণোদনার প্রভাবে কৃষকরা এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ।
বিলকাটিয়া গ্রামের চাষি সাইফুল ইসলাম শাহিন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত চাষাবাদে ছয় লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে এবং ফুলের পরাগায়নসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় শেষে ৭ লাখে দাঁড়াতে পারে।
তার মতে, পেঁয়াজ চাষের তুলনায় পেঁয়াজ বীজের চাষ অনেক বেশি লাভজনক । আবহাওয়া অনুকূলে ও প্রত্যাশিত ফলন পেলে এবছর প্রায় ৩০ লাখ টাকার বীজ বিক্রির আশা করছেন তিনি ।
আরেক কৃষক ওমর আলী জানান, গত বছর তিনি এক বিঘা জমি থেকে ১০৪ কেজি বীজ পেয়েছিলেন। এবারও লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি। তবে তিনি মনে করেন, কীটনাশক ও উন্নত বীজের সরকারি সহায়তা বাড়ালে চাষিরা আরও উৎসাহিত হবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে কুমারখালী উপজেলায় প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির কাছ থেকে বীজ কিনে অনেক কৃষক প্রতারিত হওয়ায় গত অর্থবছরে প্রায় ৪০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনা, পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর ফলেই গত মৌসুমের তুলনায় এ বছর প্রায় ২০ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বাইরের জেলাগুলোতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা ভালোভাবে লাভবান হতে পারবেন।