প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৬, ১২:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
নড়াগাতীতে চুরির প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, কালিয়া : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকার একাধিক ইউনিয়নে চুরির প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। কলাবাড়িয়া, জয়নগর, বাঐশোনা, মাউলি, খাশিয়াল ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে প্রায় প্রতিরাতেই ঘটছে চুরির ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মাঠের ফসল, টিউবওয়েল, ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক থেকে শুরু করে বাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গাছের ফলমূল—কিছুই বাদ যাচ্ছে না চোরদের হাত থেকে। এমনকি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক, মাদ্রাসা ও মসজিদের ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রক্ষা পাচ্ছে না। ফলে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিলেও চুরি কমছে না; বরং দিন দিন এর মাত্রা বেড়েই চলেছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সারাদিনের পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ এক রাতেই হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকেই। নিরাপত্তাহীনতার কারণে পরিবারগুলো চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, “শুধু পুলিশের পক্ষে একা সব জায়গায় সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব নয়। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। আমাদের সন্তানেরা রাতে কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা জরুরি।” তিনি আরও জানান, পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে চুরি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
১০ নং পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “চুরি এখন সমাজের একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। যুবসমাজের একটি অংশ মাদকাসক্ত হয়ে নেশার টাকার জোগান দিতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন ও সম্মিলিত প্রতিরোধই পারে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কঠোর নজরদারি, নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করা হোক।
নিরাপদ সমাজ গঠনে প্রশাসন ও জনসাধারণের সমন্বিত উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত