পাইকগাছা প্রতিনিধি : পত্রিকায় পাইকগাছায় সড়ক সংস্কারের আড়ালে বিটিসিএলের ক্যাবল লুটপাট: নেপথ্যে দুই কর্মচারীর শিরোনামে গত (২৩ ফ্রেব্রুয়ারি) সোমবার সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক থেকে মাটির নিচে থাকা বিটিসিএলের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অপসারণের ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলছে নথিপত্র খোঁজাখুঁজি, দায়িত্ব এড়াতে চলছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের লড়াই। পাইকগাছা-আগড়ঘাটা থেকে পৌর সদরের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক সংস্কারকাজ চলাকালে উত্তোলন করা ক্যাবলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। কিন্তু এত বড় অঙ্কের সরকারি সম্পদ অপসারণের পরও নেই কোনো লিখিত অনুমোদন, নেই স্টোর রেজিস্টারে সুস্পষ্ট এন্ট্রি, নেই গ্রহণ-বিবরণী বা ডিসপোজাল সংক্রান্ত কাগজপত্র। এতে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি সম্পদ কি নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করা হয়েছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে গায়েব করা হয়েছে? দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমান দাবি করেছেন, “রাস্তা থেকে যে তার পাওয়া গেছে, তা স্টোর রুমে রয়েছে।” তবে তিনি অপসারিত ক্যাবলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, মান বা সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনো নথি দেখাতে পারেননি। স্ক্র্যাপ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার নিলাম বা অনুমোদনের কাগজ কোথায়—এই প্রশ্নেরও সদুত্তর মেলেনি। অন্যদিকে, লাইনম্যান আলেক গাজী কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। এ বিষয়ে বিটিসিএলের খুলনার উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. বেঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, “ভালো মানের কেবল উত্তোলন হলে তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কতটুকু কেবল উঠেছে, তা ডকুমেন্টেশনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন ও দপ্তর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—৮ কিলোমিটার জুড়ে সরকারি ক্যাবল উত্তোলনের মতো বড় ঘটনা কি শুধুই অব্যবস্থাপনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সুসংগঠিত অনিয়ম? এখন দেখার বিষয়, তদন্ত আদৌ আলোর মুখ দেখে কিনা, নাকি সময়ের স্রোতে মিলিয়ে যায় ১০ লাখ টাকার সরকারি সম্পদের হিসাব।