নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ফুলদহ গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পৈতৃক বসতভিটা জবর দখল চেষ্টা ও প্রাণ নাশের হুমকির প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন হয়েছে। ফুলদহ গ্রামের ভুক্তভোগি সুকুমার সাহা (৭০) নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের বাণিজ্যিক এলাকায় এ সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও প্রতিকার দাবি করেছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সুকুমার সাহা বলেন, তার বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ফুলদহ গ্রামে। তিনি ব্যবসায়ীক কাজে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন। ওই সময়ে তিনি নিজের বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব দেন প্রতিবেশি নাথুরাম সাহাকে। সেই সুযোগে নাথুরাম সাহা তার জমির জালিয়াতি কাগজপত্র তৈরী করেছেন। এ বিষয়ে তিনি মামলা দায়ের করেন। নাথুরাম সাহার সাথে তার আদালতে মামলা চলছে। বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরই মধ্যে ফুলদহ গ্রামের প্রতিবেশি ইমরান শেখ ও অমিত হাসান তার বসতবাড়ি জবর দখলের পায়তারা করছে। নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। সহজে জমি ছেড়ে না দিলে খুন জখম করার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি ইমরান শেখ ও অমিত হাসানের দাবি,তারা নাথুরাম সাহার কাছ থেকে ওই জমি কিনেছেন। জীবন বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তিনি ফৌজদারী কার্যবিধি’র ১৮৯৮ এর ১০৭ ধারা মামলা করেছেন। আর সম্পত্তি’র জবর দখল ঠেকাতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট,নড়াইল আদালতে ফৌজাদরী কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। এসব মামলার কোন তোয়াক্কা না করে জবরদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইমরান ও অমিত চক্র। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বুকফাটা আর্তনাদ করে কেঁদে উঠেন আর বলেন হিন্দু মানুষ হওয়ায় তার উপর এতো অত্যাচার নির্যাতন। জালিয়াতি কাগজপত্র তৈরি করে তার জায়গাজমি জোর করে গ্রাস করছে প্রতিবেশি সন্ত্রাসী চক্র। তার জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। তিনি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হয় না। জোরপূর্বক তার বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে। তিনি স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অব্যহত রাখতে এবং জবর দখলকারিদের হাত থেকে রেহাই পেতে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও নড়াইল-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।