প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১, ২০২৬, ২:৪১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার চরা অঞ্চলে মৌ বাক্সের সারি
বিশেষ প্রতিনিধি; ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ সরিষার ক্ষেত এখন মৌচাষীদের অন্যতম আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে। সোনালি সরিষা ফুলের মিষ্টি রেণু আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌয়ালরা এখানে কৃত্রিম বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্বর জমিনে দেখা যায়, গাছপালার ছায়াঘেরা পরিবেশে সারি সারি সাজানো মৌ বাক্স। প্রতিটি বাক্সে হাজারো মৌমাছি নিরলস পরিশ্রম করে সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। মৌচাষীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরিষা ফুলের মধু ঘন, সুগন্ধি ও বাজারে বেশ চাহিদাসম্পন্ন। ফলে এই মৌসুমে আলফাডাঙ্গার চরা অঞ্চল হয়ে ওঠে তাদের প্রধান কর্মক্ষেত্র।
বাংলাদেশে মৌচাষ একটি ভ্রাম্যমাণ পেশা। মৌসুমভেদে মৌয়ালরা স্থান পরিবর্তন করেন। বর্ষা মৌসুমে বরিশাল জেলার সাতলার লাল শাপলার বিলসহ বিভিন্ন এলাকায় শাপলা ফুলের মধু সংগ্রহের পর শীতের শুরুতে তারা পাড়ি জমান সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে। এরপর সরিষা ফুলের মৌসুম এলে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালীসহ ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
মৌচাষীরা জানান, সরিষার ক্ষেতের পাশে বাক্স স্থাপন করলে স্বল্প সময়েই ভালো পরিমাণ মধু সংগ্রহ সম্ভব হয়। এতে যেমন কৃষকের ফসলের পরাগায়ণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি মৌচাষীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হন। ফলে কৃষি ও মৌচাষ—দুই খাতেই সৃষ্টি হয় পারস্পরিক সহায়ক সম্পর্ক।
স্থানীয় কৃষকরাও মৌচাষীদের আগমনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে সরিষার ফলন ভালো হয়। একই সঙ্গে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
সরিষার সোনালি ফুলে ভরা আলফাডাঙ্গার চরা অঞ্চল মধুর সম্ভাবনা ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত