টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোপালগঞ্জ জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কখনো কোনো কার্পণ্য করবেন না বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে গোপালগঞ্জ এই দেশেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং অন্য সব জেলার মতো এখানেও সমান সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ বজ্রকণ্ঠ-এ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম জিলানী এমপি বলেন, গোপালগঞ্জ বা টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। তাই আপনাদের মনে কোনো শঙ্কা রাখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য রাখা হবে না। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, অন্য উপজেলার তুলনায় এখানে বরাদ্দ কম হবে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেশি আসবে।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে এবং নিষ্ঠার সাথে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন টুঙ্গিপাড়ার মাটি ও মানুষের সেবা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেলে এই এলাকাকে একটি সাম্যবাদী, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, অগ্রগতি এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। সভায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়
টুঙ্গিপাড়াকে একটি আধুনিক ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা। সরকারি সেবা যেন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছায়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা। দপ্তরের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে শেষ করা। এর আগে এস এম জিলানী উপজেলা চত্বরে পৌঁছালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেন এবং একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সবশেষে তিনি উপজেলার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবলু এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন