যশোর প্রতিনিধি : ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডাল তাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান,বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে গত দেড় বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি তারল্য সংকটে রয়েছে। তবে কর্মীদের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংকট কাটিয়ে ওঠার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার মাহবুব এস এম মুন তাসিন, এবং হেড অব মার্কেটিং লুসবুন উদিতি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা জানান,প্রযুক্তি,উদ্ভাবন এবং তরুণ কর্মীদের সমন্বয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের ই–কমার্স খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা, দ্রুত ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং দক্ষ কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে দেশের ই–কমার্স খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
লুসবুন উদিতি বলেন, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি দুই সহকর্মীকে নিয়ে যশোরে এসে কল সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। পরে একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ২৮ জন তরুণকে নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুটা সহজ ছিল না, কারণ কর্মীদের ঢাকার ম্যাপ সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দিতে হয়েছিল। তবে প্রথম দিনেই তারা ১৩ হাজার টাকার বিক্রি করতে সক্ষম হন, যা যশোরে কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটিকে আশাবাদী করে তোলে।
তিনি আরও জানান, টেলিসেলস টিম দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটিং, অ্যানালিটিক্স ও ডাটা সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিভাগ চালু করা হয় যশোর আইটি পার্কের ১২ ও ১৪ তলায়। শুরুতে যেখানে মাত্র ২৮ জন কর্মী ছিল, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৬০০ জন কর্মী কাজ করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার যশোরবাসীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিপ্লোমা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী এখানে পার্ট–টাইম ও ফুল–টাইম ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পেয়েছে। এতে তারা পড়াশোনার খরচ বহনের পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করতে পেরেছে। এখন পর্যন্ত কর্মীদের প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেতন প্রদান করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
চালডাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও জানায়,কর্মীদের জন্য নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাস্টমার সার্ভিস, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন, ডেটা অ্যানালাইসিস, মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, টেলিসেলস মার্কেটিং, এআই অটোমেশন ও নেতৃত্ব উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
তবে সাম্প্রতিক তারল্য সংকটের কারণে কর্মীদের বেতন পরিশোধে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে যশোর আইটি পার্কে কর্মীরা সাময়িকভাবে কর্মবিরতিতে গেলে অফিসের কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। পরে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এক মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে এবং চলতি মাসের মধ্যেই আরও এক মাসের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মীরা গত ৪ মার্চ থেকে পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছেন। সকলের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম পরিচালক শাহাদাত হোসেন ও আজিজুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।