শরণখোলা প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবনে আগুন প্রতিরোধে আগাম সতর্কতায় শুরু হয়েছে বনবিভাগের প্রচার প্রচারণা। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনে যাতে আগুন না লাগে সে লক্ষ্যে বনরক্ষীরা মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও শুক্রবার জুমার নামাজের সময় প্রচারণার কাজ চালাচ্ছেন। গত ২৩ বছরে সুন্দরবনে ৩০ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৩০ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে সুন্দরবনের ব্যপক এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ মাস থেকে মে মাস সময়ের মধ্যে সুন্দরবনে বেশিরভাগ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবশেষে গত বছরের ২২ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জের বনে কয়েকদফা আগুন লাগে। সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবে আগুন লাগেনা। লোকালয়ের একটি চক্র সুন্দরবনে শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগিয়ে থাকে। এ চক্রটি বনে আগুন লাগিয়ে ছাই তৈরী করে রাখে। বর্ষা কালে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বনভূমি পানিতে ডুবে থাকে। পানিতে ডুবে থাকা ছাই খেতে কৈ, মাগুর ও শিং মাছ সেখানে আসে। অসাধূ চক্রের লোকেরা জাল দিয়ে সে সময় মাছ ধরে। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। সুন্দরবনে আগুনের মৌসুম শুরু হওয়ায় বনরক্ষীরা আগাম সর্তকতার জন্য গত সপ্তাহকাল ধরে সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্যমারী, নিশানবাড়ীয়া, গুলিশাখালী, আমুরবুনিয়া, ধানসাগর, রাজাপুরসহ আশেপাশের হাট বাজার ও গ্রামে ব্যপকভাবে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। জামে মসজিদ গুলোতে শুক্রবারে জুমার নামাজের সময় ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে আগুন প্রতিরোধের প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি নিয়মিভাবে ড্রোন উড়িয়ে সুন্দরবনে পর্যবেক্ষণ করছেন বনরক্ষীরা। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় চলমান শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনে আগুন প্রতিরোধে আগাম সতর্কতার জন্য কেউ যাতে অবৈধভাবে ও দাহ্য পদার্থ এবং বিড়ি সিগারেট নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ না করে সে লক্ষ্যে সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে ব্যপক প্রচার প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। মসজিদ সমূহে ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে মানুষজনকে সচেতন করা হচ্ছে। এ ছাড়া কোথাও কোন আগুন জাতীয় কিছু দেখা যায় কিনা সে কারণে নিয়মিতভাবে ড্রোন উড়িয়ে সুন্দরবনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে ডিএফও জানিয়েছেন।