ডেস্ক রিপোর্ট : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছেলে হত্যার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে দায়ী করেছেন শহীদ আনোয়ারের বাবা আল আমিন পাটোয়ারী।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি সাক্ষ্য দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ছিল আজ। এদিন চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আল আমিন।
৬৫ বছর বয়সী আল আমিন একজন অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসাশিক্ষক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন তার ৩৫ বছরের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
জবানবন্দিতে আল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাই। পরে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। ওই সময় লোকমুখে শুনি ছেলেটি গুলিবিদ্ধ হয়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ডা. আজমল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই আমি ও আমার স্ত্রী। হাসপাতালের মেঝেতে আনোয়ারসহ ১৫-২০ জনের লাশ দেখতে পাই। সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ সময় আমি আমার ছেলেকে শনাক্ত করি।
তিনি বলেন, হাসপাতালে আমার ছেলে ও অন্যান্যদের শরীরে রক্ত দেখে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে আমার ছোট ছেলে মো. আব্দুল্লাহও ছিল। এরপর আমি ছেলের লাশ হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসি। একইসঙ্গে তার মৃত্যুসনদপত্র সংগ্রহ করি। এরপর রাত ১০টার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকায় আনোয়ারের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে তাকে লক্ষ্মীপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করি।
সাক্ষী আরও বলেন, আমার ছেলের হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ অন্যান্যরা দায়ী বলে জানতে পেরেছি। বৈঠক করে কারফিউ দিয়ে আন্দোলন দমনের উদ্দেশে ছাত্র-জনতাকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ কারণেই আমার ছেলের হত্যার জন্য তাদের দায়ী করছি। আমি আমার ছেলে হত্যার ন্যায়বিচার চাই। এমন শান্তি চাই যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আল আমিনকে জেরা করেন সালমান ও আনিসুলের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।