সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: ঈদের নামাজ শেষে দুপুরের পর থেকে সাতক্ষীরার বিনোদন কেন্দ্রগুলি ও বিভিন্ন আকর্ষনীয় স্থানে বেড়াতে ছুটে আসে মানুষ। ঈদের ছুটিতে সাতক্ষীরার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সকল শ্রেণি পেশার হাজারও মানুষের পদচারণায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে। সকল বয়সের মানুষের পাশাপাশি তরুণদের মাঝে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকে তুলছেন ছবি তুলছেন সেলফি। একই সাথে শহরের ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কজুড়ে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ছিল লোকে লোকারণ্য। আইচক্রিম, কোকোকোলার দোকান, চা, ফুসকা, কফি হাউজ গুলিতে বিক্রেতাদের হিমসিম খেতে হয়েছে তরুন তরুনীদের ওর্ডার নিতে এবং চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করতে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়ক ও বিনোদন কেন্দ্র গুলিতে টহল দিতে দেখা গেছে।
শনিবার বিকেল থেকে রাত ৮ পর্যন্ত সরেজমিন জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রসহ সড়ক গুলিতে সকল বয়সের মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বিভিন্ন বয়সের বিশেষ করে তরুণ-তরুনীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল সাতক্ষীরা দেবহাটার ঐতিহাসিক বনবিবি তলা (বটগাছ), রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যাটন কেন্দ্র, সীমান্তের ইছামতি নদীর তীরে টাকীর ঘাট, সুন্দরবনের কলাগাছিয়ার আব্দুর রাজ্জাক শিশু পার্ক, শহরের মোজাফফর গার্ডেন, মুন্সিগঞ্জের আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম, উড়াল উড়াল মন ট্যুরিজম, কারামোরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, লিমপিড গার্ডেন, শ্যামনগর জমিদার বাড়ি, নলতা রওজা শরীফ, সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দিরসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদ উপলক্ষে এইসব বিনোদনকেন্দ্র সেজেছে নবরূপে। সব বয়সী মানুষের ভিড় জমলেও সিংহভাগ দখল করে রাখে শিশুরা ও তরুণরা।
সব এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। মা-বাবার হাত ধরে, কেউবা ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজনের হাত ধরে ঘুরছে। শুধু শিশুরাই নয়, শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকরাও কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যাচ্ছেন আনন্দের রাজ্যে।
গ্রাম থেকে শহরে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশু ও তরুণরা। ছোট ছোট পিকআপ ভাড়া করে লাউডস্পিকার/সাউন বক্স লাগিয়ে বিভিন্ন গান বাজনা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে তরুণরা। সীমান্তের ইছামতির নদীর তীর বা ভোমরা স্থলবন্দরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকে পরিবার-পরিজন সাথে নিয়ে মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে হাজার হাজার মানুষ আসছেন এসব এলাকায়। সঙ্গে এনেছেন পরিবার-বন্ধু-স্বজন বা শুভাকাক্ষীদের। তুলছেন ছবি তুলছেন সেলফি।
শহরের বাইপাস রোডে কফিবিক্রেতা জানালেন, বিকেল থেকে সড়কে তরুন তরুনীদের প্রচন্ড ভিড় । ছবি তুলছে,গল্প করছে এবং আড্ডায় মেতে উঠছে তারা। চা কফিও বেচাবিক্রি খুব ভালো। তিনি জানান এভাবে চলবে সপ্তাহ ধরে।
সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জের আকাশলীনায় ঘুরতে আসা সাইফুল ইসলাম দম্পতি বলেন, আমরা ঢাকায় থাকি এজন্য গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে এলে পরিবারসহ সুন্দরবন থেকে বেড়িয়ে যাই। সুন্দরবন আমাদের খুব টানে। আজ ঈদের দিন এবং পরদিন বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়াবো। খুব ভালই লাগছে।
সাতক্ষীরা মোজাফ্ফর গার্ডেনে ঘুরতে আসা শহরের মুনজিতপুর এলাকার গৃহিনী মাহমুদা খাতুন বলেন, অনেকদিন বাসা থেকে বের হতে পারিনা। আজ ঈদের দিন বিকালে মেয়ে স্বামীকে নিয়ে একটু বের হলাম। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ। খুব আনন্দ করছে মানুষ। তিনি বলেন খুব ভালো লাগছে ঘুরতে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজ আক্তার বলেন, জেলার মানুষ যারা বাহিরে থাকে তারা সকলে নাড়ির টানে নিজ এলাকায় ফিরেছেন। অনেকে ঈদের দিন বেড়িয়েছেন। অনেক ঈদের দিন বের হতে নাম পারলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে বের হবে। তা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এজন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোর কোথাও যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।