সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রাজার বাগান সদূরডাঙ্গী পূর্বপাড়ায় বাসন্তী পূজার মণ্ডপ নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজার বাগান পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
মন্দির কমিটির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, রাজার বাগান পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান টুটুল ও তার স্ত্রীসহ কয়েকজন ব্যক্তি কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন পূজার আয়োজনের সময় বাধা দিয়ে আসছেন।
রোববার সকালে বাসন্তী পূজার মণ্ডপ নির্মাণের প্রস্তুতিকালে একই ধরনের বাঁধার ঘটনা ঘটে বলে দাবি তাদের।
সদূরডাঙ্গী মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টুটুল বাস্তহারা লীগের নেতা ছিলেন এবং সে সময় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন করতো। প্রতিবেশী হওয়ায় টুটুল ও তার স্ত্রী প্রায়ই পূজা-অর্চনায় বাঁধা দিতেন।
এদিন সরকারি রাস্তার পাশে প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য বাঁশ পোঁতার সময় তারা এসে মারধরের হুমকি দেন। এমনকি টুটুলের স্ত্রী পূজা করতে হলে ভারতে গিয়ে করতে বলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মন্দির কমিটির সভাপতি আদিত্য বিশ্বাস বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বাসন্তী পূজা আয়োজন করে আসছেন। গত বছরও টুটুল ও তার পরিবার পূজা বন্ধে হুমকি ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এবারও প্যান্ডেল নির্মাণের জন্য সরকারি রাস্তার পাশে বাঁশ পোঁতার সময় কাজে বাধা দেওয়া হয়।
এ সময় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি, যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান টুটুল বলেন, পূজা মণ্ডপ নির্মাণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। রাস্তার পাশ দিয়ে আলোকসজ্জার জন্য যে বাঁশ পোঁতা হচ্ছিল, তা তার জমির অংশে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া বিদ্যুতের তারে লিকেজ থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় তার স্ত্রী এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্বাস আলী বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না দেওয়া হলেও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে এসেছেন এবং বর্তমানে সেখানে আর কোনো সমস্যা নেই বলে জানান।
স্থানীয় পূজার আয়োজকরা দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে বাসন্তী পূজার আয়োজন সম্পন্ন করা যায়।