শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনের হাতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক রাসেল হোসেন লাঞ্চিত হয়েছে। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পৌরসভার খানপুর এলাকার শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
পার্শ্ববর্তী ইছাকুড় পল্লীর মরহুম আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল মতিন ভুরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি। শ্যামনগর থানায় কর্মরত অপর সহকর্মীকে মটর সাইকেলের জ্বালানী নিতে সহায়তা করায় লাঞ্চিতের পাশাপাশি তার পোশাক ধরে চানাহেঁচড়া করেন ঐ বিএনপি নেতা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আজিবর রহমান ও সায়েদ আলীসহ অন্যরা জানান সারিবদ্ধভাবে শত শত মটর সাইকেল চালক শ্যামনগর ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানী সংগ্রহ করছিলেন। একপর্যায়ে শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক গিয়াসউদ্দীন ও সহকারী উপ-পরির্দশক কামরুল ইসলাম নিজেদের মটর সাইকেলের জ্বালানী নিতে শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে পৌছায়। এসময় জরুরী প্রয়োজন থাকার কথা বলায় উক্ত পাম্পে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সহকারী উপ-পরিদর্শক রাসেল হোসেন দুই সহকর্মীকে জ্বালানী সংগ্রহে সহায়তা করলে আব্দুল মতিন আকস্মিকভাবে পোশাক ধরে টানাহেঁচড়াসহ লাঞ্চিত করেন।
এসব প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন র্প্বু ঘোষনা মত সকাল থেকে হেলমেট ও কাগজপত্র থাকা ব্যক্তিদের মটর সাইকেলে জ্বালানী দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু অপর বিএনপি নেতা জহুরুল হক আপ্পু কিছু কর্মী সমর্থক নিয়ে ফিলিং স্টেশনে যেয়ে সবাইকে জ্বালানী সরবরাহের নির্দেশ দেয়ায় দুপুরের আগে থেকে সেখানে প্রচন্ড ভিড় তৈরী হয়।
ঘটনার শিকার সহকারী উপ-পরিদর্শক রাসেল হোসেনের ভাষ্য জরুরী ডিউটিতে যাওয়ার জন্য দুই সহকর্মী জ্বালানী নিতে আসায় তাদের সহযোগীতা করার অপরাধে আব্দুল মতিন তাকে লাঞ্চিত করেন। বিষয়টি উর্দ্বতন কতৃপক্ষকে তিনি জানিয়েছেন। এভাবে অসহযোগীতা করলে পুলিশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর।
অভিযুক্ত আব্দুল মতিনের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবির জানান, কি ঘটেছে না জেনে মন্তব্য করা যাবে না। তবে শৃঙ্খলা রক্ষা দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশকে লাঞ্চিত করা ঠিক হয়নি। বরং তাদের সহযোগীতা করা উচিত ছিল।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান ইতিমধ্যে পুলিশকে লাঞ্চিতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।