ডেস্ক রিপোর্ট : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ফুলেল শ্রদ্ধায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে দেশের সর্বস্তরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই লাল-সবুজের পতাকা হাতে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যায় শহীদ বেদী।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসছে হাজারো জনতার খণ্ড খণ্ড মিছিল। তাদের দেওয়া নানা ধরনের শ্লোগানে মুখরিত রয়েছে পুরো সৌধ চত্বর।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে আসা হাজারো মানুষের মধ্যে ছিল স্বাধীনতার চেতনা এবং ৩০ লাখ শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।
অনেককেই দেখা গেছে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে। শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে তাদের হাতে ছিল নানা রঙের, নানা বর্ণের ফুল। আবার অনেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নীরবতা পালন করেছেন।
ধামরাই থেকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ফুল দিতে এসেছেন রাজিউল হাসান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কারণে দেশ পেয়েছি। আর এই দিনটিতে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা পাওয়ার লক্ষ্যে যুদ্ধে নামে বাংলার আপামর জনতা। তাই শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।
সাদিয়া ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দেশ স্বাধীন হতে দেখিনি। তবে যারা দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদের আত্মত্যাগের কথা আমরা জেনেছি। তাই আমরা নতুন প্রজন্ম তাদেরকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে আজ স্মৃতিসৌধে এসেছি।
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান এসেছেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে, কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আজ নানা জায়গায় হুমকির মুখে। তাই এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি যেন একটু বেশিই আবেগ অনুভব করছি। এজন্য এসেছি শ্রদ্ধা জানাতে।
এর আগে, সকালে মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক। এরপর থেকেই সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে স্মৃতিসৌধে।