ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি : আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে গ্রেফতারকৃত সুমন শেখ ও তানভীর চৌধুরী কিলিং মিশনে অংশ নিতেই ৩টি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ ৪/৫ সন্ত্রাসী ফুলতলার দামোদর পূর্বপাড়া ভৈবর নদীর পাথর ঘাটে অবস্থানের কথা স্বীকার করে। শনিবার বিকালে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকাল ফুলতলায় ৩টি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দামোদর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ওরফে সুমন রওফে লাল শেখ ও ফুলবাড়ী গেট এলাকার তানভীর চৌধুরী ওরফে আপ্পান আটক ঘটনায় থানার এসআই মোঃ শফিউজ্জামান বাদি হয়ে ৫ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা (নং-৫, তারিখ-২৮/০৩/২৬ইং) দায়ের করেন। দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয় ফুলতলার দামোদর পূর্বপাড়া বিদ্যুৎ অফিসের পূর্বপাশে ভৈবর নদীর বালুর ঘাটে ৪ ব্যক্তি সন্দেহজনক ভাবে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই শফিউজ্জামান ও কনস্টেবল শুভ ঘোষ সেখানে উপস্থি হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তানভীর চৌধুরী ওরফে আপ্পান ও তরিকুল ইসলাম সুমন ওরফে লাল শেখকে জাপটে ধরা হয়। তবে অস্ত্রসহ অন্য আসামীরা পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ম্যাগজিনে ৩ রাউন্ড গুলিসহ ইউএসএ তৈরী ৭.৬৫ পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলিসহ পাকিস্থানের তৈরী একটি রিভলবার, ১টি দোনালা বন্দুক, দুইটা এ্যানড্রয়েড মোবাইল এবং রেজিষ্ট্রেশন বিহিন একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
এদিকে পুলিশ শনিবার দুপুরে খুলনার কগনিজেন্স আদালত ছ অঞ্চলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আলতাফ মাহমুদের খাস কামরায় গ্রেফতারকৃত দামোদর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ওরফে সুমন শেখ ও ফুলবাড়ী গেট এলাকার তানভীর চৌধুরীকে হাজির করা হয়। সেখানে আসামীদ্বয় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। জবানবন্দীতে তাদের কথিত গড ফাদারের নির্দেশে কিলিং মিশনে অংশ নিতেই তারা দামোদর পূর্বপাড়া ভৈবর নদীর পাথর ঘাটে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ অবস্থান নেয়। মোবাইল ফোনের ওয়াটঅ্যাপে কিলিং মিশনে টার্গেটকৃত ব্যক্তির নাম ঠিকানা ও ছবি আসার অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে সাদা পোশাককে থানা পুলিশের এসআই শফিউজ্জামান ও কনস্টেবল শুভ ঘোষ ক্ষিপ্র গতিতে ৯ রাউন্ড গুলিসহ ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি রিভলবার ও ১টি দুনালা কাটা বন্দুকসহ সুমন শেখ ও তানভীর চৌধুরীকে জাপটে ধরে বসে। ঘটনাস্থল থেকে কোমরে গুলিভর্তি পিস্তলসহ দুই সন্ত্রাসী পালিয়ে যায় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।