পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের আগড়ঘাটা বাজার থেকে দিনে দুপুরে একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যান চুরি হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে দশটার দিকে আগড়ঘাটা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন আগড়ঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ম গেটের সামনে হতে ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
চুরি হয়ে যাওয়া ব্যাটারি চালিত ভ্যানটির মালিক উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের পুরাই কাটি (ঋষিপাড়া) গ্রামের আনন্দ দাশ (৫০) জানান, প্রতিদিনের ন্যায় সে আজও সকালে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় আসে জীবিকা নির্বাহের জন্য। সে তার বাড়ি থেকে স্থানীয় নতুন বাজারের সমিলের নিকট পৌছালে দু'জন ব্যক্তি ১টি মোটরসাইকেল যোগে তার কাছে আসে। এবং সেখান থেকে আগড়ঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে বই নিয়ে কপিলমুনি যাবে বলে ভাড়া চুক্তি করে। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন তার ভ্যানে উঠে বসে অন্য আরেকজন মোটর সাইকেল চালিয়ে ভ্যানের পিছনে পিছনে আসে। এমতাবস্থায় তাড়া আগড়ঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১ম গেটে পৌছালে ভ্যানে বসে থাকা যাত্রী ভ্যান চালকের ভ্যানটিকে মোটরসাইকেলে থাকা অন্যজনকে পাহাড়ায় রেখে ভ্যান চালককে নিয়ে বই আনার জন্য গেটের ভিতরে ঢুকে বিদ্যালয়ের দিকে যেতে থাকে। ভ্যানচালক ও সাথে থাকা যাত্রী বিদ্যালয়ের মাঠের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালে সাথে থাকা যাত্রী ভ্যান চালককে পুনরায় ভ্যানের নিকট ফিরে গিয়ে ভ্যানটি মুল গেট দিখিয়ে দিয়ে সেখান দিয়ে নিয়ে বিদ্যালয়ের ভিতরে আসতে বলে। তখন ভ্যানচালক রেখে আসা ভ্যানের কাছে এসে দেখতে পায় তার ভ্যানটি সেখানে নেই। এমনকি ভ্যানটির পাহারায় যিনি ছিলেন মোটরসাইকেল সহ তিনিও নেই। তখন ভ্যানচালক আবার দৌড়ে যায় বিদ্যালয়ের ভিতরে কিন্তু সেখানেও গিয়ে দেখে অপর ব্যক্তিও বিদ্যালয়ের মাঠে নেই। তখন সে বুঝতে পারে তার ভ্যানটি পরিকল্পনা করেই চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।
এসময় তিনি অঝরে কান্না শুরু করলে আশে পাশে থাকা লোকজন ছুটে আসে এবং ঘটনার বিবরণ শুনে স্থানীয়রা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও ভ্যানটির কোন সন্ধান মেলেনি।
এদিকে ভ্যানচালক আনন্দ দাশ আরও জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি নিজেই। তার স্ত্রী খুবই অসুস্থ। এই একমাত্র ভ্যানটি চালিয়েই পরিবারের মুখে অন্য যোগানো সহ স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ চালাতেন। ভ্যানটি চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েছে এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় সাধারণ ডায়রির প্রস্তুতি চলছিল।