ডেস্ক রিপোর্ট : জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন। কিন্তু এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় শহীদের পরিবার। তারা দাবি করেন, মূল অপরাধীদের সাজা আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধবকে। বাকি ২৫ আসামি পেয়েছেন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড।
রায় ঘোষণার পর আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই। মূল অপরাধীদের সাজা আরও বেশি আশা করেছিলাম। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের দীর্ঘ মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়নি। নামমাত্র স্বল্পমেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সকল আসামির ফাঁসি চাই।’
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না-এ প্রশ্নের জবাবে মকবুল হোসেন বলেন, ‘আইনজীবী ও বড় ছেলের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মূল অপরাধীদের আরও দীর্ঘ মেয়াদি সাজা আশা করেছিলাম। সরকারের কাছে দাবি করছি। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’
মামলার এক সাক্ষী বলেন, ‘শুধু একজন কনস্টেবলের সাজার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পার হয়ে গেল। একজন কনস্টেবলকে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গুলির আদেশ দিয়ে থাকে। তাহলে শুধু কনস্টেবলের সাজা দেওয়া হলো কেন? এই রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট।’
গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি-স্কোয়ার এলাকায় বুলডোজার চাপা দিয়ে আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। আবু সাঈদকে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে দাবি করে আসছে তরুণ সমাজ।
এ ঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ও কনস্টেবলসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করে তদন্ত সংস্থা। গত কয়েক মাস ধরে ট্রাইব্যুনালে মামলাটির বিচারকাজ চলে।
আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীদের একাংশ রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বললেও আবু সাঈদের পরিবারের অসন্তোষ ইঙ্গিত দিচ্ছে, অনেকের কাছে রায়টি পূর্ণ ন্যায়বিচার হিসেবে ধরা হয়নি। বিশেষ করে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের কম মেয়াদে সাজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আবু সাঈদের পরিবারের দাবি, যারা আদেশ দিয়েছিলেন, তারাও যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পান। এই দাবি নিয়ে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।