দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপে ঐতিয্যবাহি চালনা লেকে দীর্ঘদিন যাবৎ জমে রয়েছে কচুরিপানা| এমনকি এক বিন্দু পানিও ফাঁকা নেই| এই কচুরিপানা পচে পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে| ফলে সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে লেকের পানি| এতে আবার সাপ, মশা ও মাছির উৎপাতও বেড়েছে লেকের আশে পাশে এলাকায়| এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে| এই কচুরিপানা অপসারণ এবং লেকটি সংস্কার করে পানি ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি|
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে এই চালনা লেকে গ্রাম বাংলার ঐতিয্যবাহি মহিলা ও পুরুষদের নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হতো| এছাড়া পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সাঁতার প্রতিযোগিতা উপভোগ করতো হাজার হাজার লোক| তাছাড়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের সাঁতার শেখা, সাঁতার কাটা ও চালনা পৌরসভার ৫, ৬ এবং ৭ ন¤^র ওয়ার্ডের লোকজন গোসল, ধোয়া পালা ও রান্নার কাজে লেকটির পানি ২০ থেকে ২৫ বছর যাবৎ ব্যবহার করে আসছিলো| শুষ্কো মৌসুমে এসব ওয়ার্ডের লোকজনের এক মাত্র ভরসা এই লেকটির পানি| কিন্তু বর্তমানে বেশ কয়েক বছর যাবৎ বিশাল এই লেকটিতে জমে রয়েছে কচুরিপানা| দেখে যেনো মনে হয় সবুজে ঘেরা কোন মাঠ| লেকটিতে জমে থাকা কচুরিপানা পচে পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে| ফলে ওই ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার লোকজনের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে| এছাড়া লেকের পাশে অবস্থিত নকুল চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চালনা আর্শিবাদ এবং এজি চার্জ স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও| স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলে আসলেও লেকটির কচুরিপানা অপসারণ বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন ও চালনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ|
চালনা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গৌতম সাহাসহ আরো অনেকে জানান, এক মাত্র ভরসা লেকটিতে দীর্ঘদিন যাবৎ জমে থাকা কচুরিপানা পচে পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে| এমনকি চুলকানি ও এলার্জির ভয়ে লেকের পানি কেউ ছুতেও পারে না| ফলে পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার লোকজনের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে| তাছাড়া কচুরিপানা জমে থাকার কারণে সাপ , মশা ও মাছি উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে চরম ভাবে| এমনকি সন্ধ্যার পরে কোন দোকানে মশার কামড়ের কারণে লোকজন বসতেও পারে না| লেকটির কচুরিপানা অপসারণ এবং সংস্কার করে পানি ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে| কিন্তু আজও পর্যন্ত কোন প্রতিকার পায়নি| তাছাড়া লেকটিতে পানির ফোয়ারা এবং চার পাশে বসার বেঞ্চ ˆতরী করে দিলে পৌরসভা তথা উপজেলাবাসির জন্য একটি আদর্শ বিনোদন কেন্দ্রে পরিনত হবে বলে মনে করেন তিনি|
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, যেহেতু লেকটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের| সেক্ষেত্রে লেকটির কচুরিপানা অপসারণে একটু জটিলতা আছে| পানি উন্নয়ন বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে| ওখানকার রিপোর্ট ভালো আসলে পৌরসভা থেকে লেকটির কচুরিপানা পরিস্কার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
এব্যাপারে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পাউবো-২) মোঃ জহির মাজহার এ প্রতিবেদককে জানান, চিঠিটি আমরা পেয়েছি| যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে| তবে অতি দ্রুত কচুরিপানা অপসারণে একটা ব্যবস্থা হবে|