ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে সোমবার মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্সের
বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী ডলারের চাপে এ পতন ঘটেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও কমে গেছে। তাই স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম বাড়ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে গিয়েছিল। এতে প্রতি আউন্স ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দিনের শুরুতে এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন ৪,৬৪৩ ডলারে নেমেছিল। জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০.৮% কমে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডলার সূচক ০.৩% শক্তিশালী হয়েছে এবং তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর মাঝে আবার যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বর্ণের দাম কমার পেছনে সেটি একটি কারণ হতে পারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শান্তি আলোচনার ব্যর্থতায় যুদ্ধবিরতির আশা ভেঙে গেছে। ফলে ডলার ও তেলের দাম বেড়েছে, যা স্বর্ণের ওপর আবার চাপ সৃষ্টি করেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্পট গোল্ডের দাম ১১% এর বেশি কমেছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায়। তবে উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের জন্য নেতিবাচক। শক্তিশালী ডলারের কারণে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
ওয়াটারার বলেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সামনে আসে। যা স্বর্ণের পারফরম্যান্সকে দুর্বল করে।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, জ্বালানির উচ্চ মূল্য সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং মুদ্রানীতিতে শিথিলতার সুযোগ কমিয়ে দেয়। তাই চাপ পড়ছে মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর।