প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ১:৩০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে সোনালি আভায় ভরে উঠছে বোরো ক্ষেত, কৃষকের চোখে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সোনালি-সবুজের ঢেউ। বৈশাখের হাওয়ায় দুলছে বোরো ধানের শীষ। মাঠে গেলে চোখে পড়বে দিগন্তজোড়া পাকা ধানের সমারোহ—ঠিক যেন সোনা রঙা চাদর বিছানো। কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন তারা।
সরেজমিনে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান এখন ‘দুধ আসা’ ও ‘পাকা’ পর্যায়ে রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে ব্রিধান-২৮, ব্রিধান-২৯ ও বিআর-২৬ জাতের ধান চাষ করেছেন বেশিরভাগ কৃষক। রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ এবার তুলনামূলক কম।
সাতলা গ্রামের কৃষক মোঃ বাদশা হাওলাদার জানালেন, সময়মতো সার-পানি দিতে পেরেছি বলে এবার পোকা মাকরের আক্রমণও কম। আর কয়দিন পরই ধান কাটা শুরু করব ইনশাআল্লাহ । তবে দামটা ভালো পাইলে কষ্ট সার্থক হইবে।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বরিশাল জেলায় বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা এবং সঠিক পরিচর্যার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। তবে শেষ সময়ে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা আছে। কৃষকদের দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বোরো ধানের ভালো ফলনের জন্য জমিতে সঠিক মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার জরুরি। অনেক কৃষক বোরো চাষের আগে আলু, সরিষা বা শিম জাতীয় শস্য চাষ করে নেন, এতে জমির উর্বরতা বাড়ে এবং বোরোর ফলন ৩০-৩৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ধান কাটার ভরা মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যায়।
বাজার দর: উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে কৃষকরা উদ্বিগ্ন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ: কালবৈশাখীর হাত থেকে ফসল রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
স্থানীয় রাইস মিলগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন ধান কেনার জন্য। বরিশাল জেলায় বেশ কিছু রাইস মিল সক্রিয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে এ-অঞ্চলের কৃষকের মুখে এখন সোনালি হাসি। আবহাওয়া ভালো থাকলে আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গোলায় উঠবে নতুন বোরো ধান।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত