প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ৯:৫৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
দিঘলিয়ায় বারাকপুর খেয়াঘাট দখলের চেষ্টা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
এস.এম. শামীম, দিঘলিয়া : খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের বারাকপুর খেয়াঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে স্থানীয় এক ব্যক্তি জোরপূর্বক ঘাট দখল করে টোল আদায় শুরু করলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে বিকেলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেয়াঘাটটির বর্তমান ইজারাদার মো: ইয়াজুল ইসলাম, যিনি মূল ঠিকাদার মো: আকবর হোসেনের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে বৈধভাবে ওয়ার্ক অর্ডার নিয়ে ঘাট পরিচালনা করে আসছিলেন।
কিন্তু একই এলাকার বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ঘাট ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও জানা যায়, বুধবার সকালে রবিউল ইসলাম ৭/৮ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঘাটে গিয়ে টেবিল বসিয়ে জোরপূর্বক টোল আদায় শুরু করেন।
এ সময় ইজারাদারের প্রতিনিধি ইয়াজুল ইসলাম কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, স্থানীয় আরিফ নামের এক ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ৩ থেকে ৫ শত টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো বলেও জানা গেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগ দিয়ে ঘাট দখলে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইজারাদার ইয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী বৈধভাবে ঘাটের ইজারা নিয়েছি এবং পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু রবিউল ইসলাম ও তার লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে ঘাট ছেড়ে দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এমনকি তারা আমার কাছে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এ ঘটনায় ইয়াজুল ইসলাম দিঘলিয়া থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
খবর পেয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে টোল আদায়কারী রবিউল কে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, খেয়াঘাটটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও এ ধরনের প্রকাশ্যে দখল ও টোল আদায়ের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত