শরণখোলা প্রতিনিধি : শরণখোলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে তরমুজ| এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে| ভরাট হওয়া খাল পুনঃ খনন করে পানি সংকট দুর করা গেলে তরমুজসহ কৃষি ফসল উৎপাদনে উপজেলায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে কৃষকরা জানালেন|
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া খেতে তরমুজের সমারোহ| এ ছাড়াও উপজেলার রাজেশ^র, জিলবুনিয়া, উত্তর তাফালবাড়ী, রাজৈরসহ অন্যন্য কয়েকটি গ্রামেও ব্যপক জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন চাষীরা| সোনাতলা গ্রামের কৃষক মজিবর আকন বলেন, এ বছর শুধুমাত্র সোনাতলা গ্রামেই ৮জন কৃষক ৮০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে| গত চার বছর আগে প্রথম তরমুজের চাষ শুরু করেন তিনি| তা দেখে অনেক কৃষক তরমুজ চাষে এগিয়ে আসেন| এ বছর উৎপাদিত তরমুজ ট্রাক ভরে খুলনা ও বাগেরহাটসহ স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়| ধানের চেয়ে তরমুজ চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি বলে কৃষক মজিবর আকন জানালেন| কৃষক পান্না আকন বলেন, মাঠের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত খুরমাতলা উত্তর তাফালবাড়ী খালটি ভরাট হয়ে আছে| ফলে বেশি টাকা ব্যয় করে অনেক দুর থেকে পাইপের মাধ্যমে মিষ্টি পানি এনে তাদের তরমুজ চাষ করতে হচ্ছে| কৃষক ফজলুল হক, মিরাজ হাওলাদার, শিপন হালদার বলেন, এবার তরমুজের ভালো ফলন হলেও সম্প্রতি হঠাৎ বৃষ্টিপাতে মাঠে পানি জমে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়েছে| যে কারণে তারা বেশী লাভ করতে পারেননি বলে ঐ কৃষকরা জানান| স্থানীয় সমাজ সেবক আবু রাজ্জাক আকন বলেন, তরমুজ খেত থেকে মাত্র দুই হাজার ফুট দুরত্বে থাকা খুরমাতলা উত্তর তাফালবাড়ী খালটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে আছে| অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঐ খালটি পুনঃ খনন করা হলে কৃষকদের চাষাবাদের পানি সংকট দুর হবে| এর ফলে এখানে কৃষি ফসল উৎপাদন ৪/৫ গুন বেড়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানালেন ঐ সমাজসেবক|
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, তরমুজ চাষ শরণখোলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে| চলতি বছরে উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে| ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে|আগামীতে আরো বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হবে বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান|