ডেস্ক রিপোর্ট : তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে বিএনপি’ র স্থানীয় দুই জন নেতার সমর্থকদের মধ্যে খুন, জখম এবং ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে| শনিবার সকাল পৌনে আট টা থেকে শুরু করে কয়েক ঘন্টা ব্যাপী চলা এ পরিস্থিতি থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা নিয়ন্ত্রণ করেন| এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল| সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল|
নিহত নূর আলম শেখ (৫৬) ওই এলাকার জনৈক ইকরাম শেখের ছেলে| জখম হওয়া চার জন হলেন, মুছা শেখ (২২), সোহেল রানা (৪০), মফিজুর রহমান (৪৫) এবং মোঃ আলী মোঃ আলী হুসাইন শেখ (৪০)|
পুলিশ জানায়, বিএনপি নেতা শহিদুল এবং সাইফুল গ্রুপের মধ্যে আভ্যন্তরীন বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সহিংসতা ঘটেছে| সকালে সাইফুলের অনুসারি নূর আলমসহ কয়েকজন মধুপুর গ্রামের একটি বিলে ধান কাটতে যাচ্ছিলেন| তখন বিরোধী পক্ষ শহিদুলের অনুসারি ১৫/২০ জনের একটি দল তাদের ওপর ধাঁরালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে| জখম হওয়া পাঁচ জনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়| সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর একটার দিকে নূর আলম মৃত্যু বরণ করেন| অন্য চার জন হাসপাতালের সার্জারি ইউনিট-১ এ চিকিৎসাধীন আছেন| বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে গুরুতর জখম হওয়া সোহেল রানার অস্ত্রপাচার চলছিল|
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- সাইফুল গ্রপের কিছু লোক সকালে ওই বিলের একটি জমিতে ধান কাটছিলেন| তখন বিরোধী পক্ষ শহিদুল গ্রুপের লোকেরা লাঠি, রামদা, হাসুয়া, ফুলকোচসহ অন্যান্য দেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলে পড়ে| তাদের ধাঁরালো অস্ত্রাঘাত ও মারপিটে পাঁচ জন মারাত্মকভাবে জখম হন| এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাইফুল গ্রুপের লোকেরা বিরোধী পক্ষের অন্তত অর্ধশত ঘর-বাড়ী ও দোকানে ভাংচুর এবং লুটপাট চালায়| খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে|
খুলনা জেলার অতি: পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপারেশন) আনিসুজ্জামান বলেন, বিবাদমান দুইটি পক্ষের দ্বন্দ-সংঘাত স্থগিত ছিল, পরিস্থিতি ¯^াভাবিক ছিল| হঠাৎ সহিংসতার খবর পয়ে থানা পুলিশ এবং ডিবির টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন| যে কোন অপ্রিতীকর অবস্থা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে| পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে| তবে, থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে| খুন-জখমে জড়িতদের গ্রেফতার জন্য অভিযান চলছে|
বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিহত নূর আলমের মরদেহ সুরতহাল এবং ময়না তদন্তের অপেক্ষায় খুমেক হাসপাতালের মর্গে ছিল| তার হাত ও পায়ে জখমের ক্ষত দেখা গেছে| অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার আগে আহত সোহেলের মাথায় এবং পায়ে জখমের চিহ্ন দেখা গেছে| খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন|