শরণখোলা আঞ্চলিক অফিসঃ শরণখোলায় সনাতনী পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর.মারপিট ও লুটপাটের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে| পুলিশ ২ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে চালান দিয়েছে| বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন| গত সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে রবীন ঢালীর বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে| ভুক্তভোগী রবীন ঢালী অভিযোগে বলেন, তিন-চার বছর ধরে প্রতিবেশী সোবাহান হাওলাদারের সাথে তার জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছে| এর জের ধরে সেমাবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে সোবাহন হাওলাদার, তার দুই ছেলে মিরাজ ও আব্দুল্লাহ এবং দুই ভাই সরোয়ার ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী রবীনের বাড়িতে হামলা চালায়| সন্ত্রাসীরা দা, হাতুড়ি, শাবল, লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে বসত ঘর ভাঙচুর শুরু করে| ঘরের চালা, বেড়াচাটকি ও আসবাবপত্র ভেঙে চুরমার করে ঘরে থাকা ট্রাংক ভেঙ্গে ¯^র্ণালংকার,লক্ষাধিক নগদ টাকা এবং জমির দলিলপত্র লুট করে নেয়| এ সময় তাদের বাধা দিলে সন্ত্রাাসীরা বাড়ির নারী সদস্যদের মারধর করে | মারধরে আহতরা হলেন, রবীন ঢালীর স্ত্রী সীমা রাণী (৩৫), মা দুলালী রাণী (৭০), নানী বেলকা রাণী (৯০) এবং তার দুই খালা বিমলা রাণী (৬০) ও লীলা রাণী (৬৫)| এদেরকে শরণখোলা উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে| ভুক্তভোগী পরিবারের ¯^জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্মল হালদার ও বিজন হালদার বলেন, আমাদের চোখের সামনে যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়েছে এমন ঘটনা ৭১ সালেও এমন হয়নি| বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাছান চৌধুরী মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন| পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, হামলা ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতরা ছাড় পাবেনা| পুলিশ মামলার আসামীদের ধরার জন্য অভিযান চালাচ্ছে| বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের শরণখোলা উপজেলা কমিটির আহবায়ক ¯^পন কুমার নাগ বলেন,হিন্দুপাড়ার এই ঘটনাটি সংখ্যালঘুদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে| সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার পাশপাশি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই| এব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত ও সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, হামলাকারীরা কোনো দলের লোক না, এরা সন্ত্রাসী| দোষীদের শাস্তি হোক এটাই চাই| শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, হামলা লুটপাটের ঘটনায় রবীন ঢালী বাদী হয়ে ২৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েক জনের নামে থানায় মামলা করেছেন| পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় আসামী উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের জামাল শিকদারের ছেলে রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে নাইম ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে| গ্রেফতারকৃতদের মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন|