তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলা এখন দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় দুধ উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে| হাজারো খামারি তাদের শ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী দুগ্ধভিত্তিক অর্থনীতি| তবে উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্যের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ছেন প্রান্তিক খামারিরা| এছাড়া গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় অ¯^স্তিতে রয়েছে তারা|
তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ৭২৫টি খামার রয়েছে| এসব খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে| স্থানীয় চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ হাজার লিটার মিটিয়ে বাকি দুধ খুলনা, সাতক্ষীরা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে| সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় তালা সদর ইউনিয়নে| এর পাশাপাশি খলিলনগর, খলিষখালি ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুধ উৎপাদিত হচ্ছে| জেয়ালা গ্রামের খামারি প্রশান্ত কুমার ঘোষ জানান, এক কেজি গো-খাদ্যের দাম বেড়ে বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পৌঁছেছে| অথচ প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়| প্রায় ৫১ বছর ধরে গরু পালন করে আসা এই খামারির বর্তমানে ফ্রিজিয়ান, জার্সি ও হাইব্রিড জাতের ৪৫টি গাভি রয়েছে, যেগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়| তিনি বলেন, এখন খরচ উঠলেও লাভ থাকে না, পরিশ্রমটাই বৃথা যাচ্ছে| একই গ্রামের আরেক খামারি পার্থ মণ্ডল বলেন, আমাদের জেয়ালা গ্রাম এখন দুগ্ধপল্লী হিসেবে পরিচিতি হয়েছে| আমি তিনটি গাভি পালন করি| কিন্তু খাদ্যের যে দাম, তাতে দুধ বিক্রি করে খরচই ওঠে না| দুধ সংগ্রহকারী সুবির ঘোষ জানান, গত ২০ বছর ধরে ছোট খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে আসছেন তিনি| সেই দুধ বর্তমানে ৪৭ টাকা দরে মহাজনের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে| রোদ, বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয় বলেও জানান তিনি| গরুর খাদ্য সংকট মেটাতে খামারিরা ঘাস চাষেও এগিয়ে এসেছেন| বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ২০ একর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ঘাস চাষ হচ্ছে| অনেকে এটিকে আলাদা ব্যবসা হিসেবে গড়ে তুলেছেন| প্রায় ৪০টি স্থানে নিয়মিত ঘাস বিক্রি হওয়ায় খামারিদের জন্য সহজলভ্য খাদ্য নিশ্চিত হচ্ছে| তালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাছুম বিল্লাহ বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে গরু পালন এবং উন্নত জাতের গবাদিপশু ব্যবহারের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে| খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও টিকাসেবা দেওয়া হচ্ছে| তিনি আরও বলেন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে তালা উপজেলার দুধ শিল্প জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে|