ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর দৌলতপুর থানার মহেশ^রপাশা কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সোহাগ (৪৬), পেশায় ইজিবাইক চালক| গত ২৩ এপ্রিল তিনি দাতের যন্ত্রনায় কাতর হয়ে ফুলবাড়ীগেট দারোগার বাজার এলাকার এসএস ডেন্টাল কেয়ার নামের একটি বেসরকারি দন্ত চিকিৎসালয়ে যান| শেখ সুলতান মাহামুদ গালিব নামে একজন ডেন্টাল টেকনিশিয়ান তার চিকিৎসা শুরু করেন| তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র দেন| ২ মে সন্ধ্যায় রোগী ওই ক্লিনিকে গেলে তার দাতে পুটিং করা হয়| দুই দিন পর ওই দাতে তীব্র যন্ত্রনার প্রেক্ষাপটে ৪ মে সন্ধ্যায় রোগী আবারও সেখানে যান| তখন কথিত ওই ডাক্তার তার পুটিং তুলে ফেলেন এবং দাত উঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেন| কয়েক দফায় অবস করা ইনজেকশেন দেবার পর তিনি দাত তোলার কাজ শুরু করেন| রোগী তখন ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন, ছট-ফট করছেন| এভাবে কেটে যায় অন্তত তিন ঘন্টা| এক পর্যায়ে টেকনিশিয়ান গালিব ব্যর্থ হয়ে তাকে একই এলাকার শেখ সুপার মার্কেট সংলগ্ন ছোবহান ডেন্টাল কেয়ার নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান| সেখানেও চিকিৎসা দিচ্ছেন মোঃ শাহ& জামাল নামে আরেকজন দন্ত টেকনিশিয়ান| তিনি রোগীর দাতের অর্ধাংশ তুলে ফেলেন| প্রেসক্রিপশনে কিছু ওষুধ লিখে দেন| পরবর্তীতে তার দাতের ব্যাথা এবং ফোলা আরও বেড়ে যায়|
ভুক্তভোগী সোহাগ জানান, পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে তিনি খুলনা জেনারেল হাসপাতালে যান| সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে একটি এক্সরে রিপোর্ট করতে দেন| যা দেখে তিনি বলেন- দাতটির টিসু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেটি তোলা যাবেনা| তিনি একটি ব্যবস্থাপত্র দেন| প্রেসক্রিপশনের ওষুধ সেবন করে রোগী কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছেন|
সোহাগের মত আরো অনেকে কথিত অথবা ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের কবলে পড়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন, খেসারত দিচ্ছেন| ¯^াস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জন ডিগ্রি অর্জনের পর বিএমডিসি কর্তৃপক্ষের রেজিস্টার্ড ডাক্তারগণই শুধুমাত্র দাতের চিকিৎসা করতে পারবেন| টেকনিশিয়ান ডাক্তারের সহযোগী, তার চিকিৎসা দেবার অনুমতি নেই| এক্ষেত্রে তিনি শাস্তির আওতায় আসবেন|
সূত্রমতে, নগরীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, খুলনা (ডেন্টাল ক্লিনিক) এবং সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার আলী হোসেন সড়ক সংলগ্ন পালপ ডেন্টাল হাসপাতাল নামে শুধুমাত্র দুইটি বেসরকারি ডেন্টাল ক্লিনিকের লাইসেন্স আছে| তবে, বিভিন্ন স্থানে বিএমডিসির রেজিস্টার্ড চিকিৎসকগণ চে¤^ার পরিচালনা করছেন| তদের লাইসেন্স গ্রহণের প্রয়োজন নেই, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হলে তারা সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে চিকিৎসা কাজ চালাবেন|
শহরের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ফুলবাড়ীগেট, দৌলতপুর, খালিশপুর, গল্লামারী, সিমেট্রি রোডসহ বিভিন্ন স্থানে চক-চকে ছবি স¤^লিত সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দন্ত টেকনিশিয়ান অথবা চিকিৎসকদের সহকারীরা দাতের চিকিৎসালয় খুলে ব্যবসা করছেন| তাদের কাছে যাওয়া অনেক রোগী সুচিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন| ওই সব চিকিৎসকদের অনেকের প্যাডে দন্ত অথবা ডেন্টাল টেকনিশিয়ান উল্লেখ আছে|
খুলনা বিভাগীয় ¯^াস্থ্য পরিচালক ডা: মো: মুজিবুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে সিভিল সার্জন ম্যজিস্ট্রেট নিয়ে ওইসব কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন| ভ্রাম্যমান আদালত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনবেন|