ডেস্ক রিপোর্ট : মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে ভারতে আবার বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম। নতুন দরে লিটারে ৮৬ পয়সা বেড়েছে পেট্রোলের দাম। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৮৩ পয়সা।
মূল্যবৃত্তির জেরে কলকাতায় পেট্রোলের দাম পৌঁছেছে ১০৯ রুপি ৬০ পয়সায়। ডিজেলের নতুন দাম হয়েছে লিটারে ৯৫ রুপি ৯৬ পয়সা।
নতুন দাম নির্ধারণ অনুযায়ী, রাজধানী নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৯৮ দশমিক ৬৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছে ৯১ দশমিক ৫৮ রুপি। বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৫৯ রুপি, অন্যদিকে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি বেড়ে ৯৪ দশমিক ০৮ রুপি হয়েছে। চেন্নাইয়ে পেট্রোলের দাম ১০৪ দশমিক ৪৯ রুপি এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৬ দশমিক ১১ রুপি।
ভারতের চারটি মেট্রো শহরের মধ্যে কলকাতায় পেট্রোলের দাম সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা— এই আবহেই দেশজুড়ে দ্বিতীয়বার বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম।
এর আগে ১৫ মে পেট্রোলের দাম লিটারে ৩ টাকা ২৯ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে মাত্র চার দিনের মধ্যে জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে দিল্লি-এনসিআর জুড়ে প্রতি কেজি সিএনজির দাম এক রুপি বাড়ানো হয়েছে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে দিল্লিতে সিএনজির দাম প্রতি কেজি ৮০ দশমিক ০৯ রুপি হয়েছে, অন্যদিকে নয়ডা এবং গাজিয়াবাদে দাম বেড়ে প্রতি লিটার ৮৮ দশমিক ৭০ রুপি হয়েছে।
পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির রুখতে এর আগে পেট্রোলিয়াম পণ্যের উপর প্রায় ১০ রুপি কর প্রত্যাহার করে কেন্দ্রীয় সরকার। একইসঙ্গে রপ্তানিতে স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি বা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক বসানো হয়। এর ফলে জনগণের পকেটের উপর দীর্ঘসময়ে চাপ পড়েনি। বেশ কিছুদিন পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল ছিল ভারতীয় বাজারে। কিন্তু সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলারের বেশি। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে। ফলে চার দিনের ব্যবধানে আবারও মূল্যবৃদ্ধির পথে হেঁটেছে ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলো।
বিশ্ববাজারে উত্তাল পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছেছে ভারতীয় মুদ্রা। মূল্যবৃদ্ধির হার পৌঁছেছে সাড়ে ৩ বছরের সর্বোচ্চ স্তরে। ধুঁকছে শেয়ার বাজার। ইতোমধ্যে বাড়ানো হয়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। বেড়েছে বাণিজ্যিক এলপিজির দামও। চাপ বেড়েছে পরিবহণ খরচে। দুধের দাম বৃদ্ধিও মধ্যবিত্তের খরচ আরও বাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দিন কয়েক আগে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রাইভেট গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শও দেন। তিনি নিজে তার কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছেন। বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রীও সেই একই পথে হেঁটেছেন। এর পাশাপাশি ওয়ার্ক ফ্রম হোমের উপরও জোর দিয়েছেন মোদী।