ডেস্ক রিপোর্ট : কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা ও অস্ত্র আইনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার বিচার শেষে এ রায় দেওয়া হয়। আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে আদালত রায় দিয়েছেন।”
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়িতে ডাকাত দলের অবস্থানের খবর পায় যৌথ বাহিনী। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
অভিযানের একপর্যায়ে ডাকাত দলের সদস্যদের ধাওয়া করলে তরুণ সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জনের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে এবং পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন চকরিয়া থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা।
নিহত লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করের বেতকা গ্রামে।
রায় ঘোষণার পর আদালতপাড়ায় আইনজীবীদের মধ্যে সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আদালতের রায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে।