ডেস্ক রিপোর্ট : সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কা থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফার ময়দানে হজের খুতবা শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ২০মিনিটের দিকে আরাফা ময়দানের নামিরাহ মসজিদ থেকে খুতবা পাঠ শুরু করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি।
খুতবায় বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও শান্তি কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি তাকওয়া অবলম্বন, আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কিয়ামতের দিন মুখোমুখি হতে হবে এক ভয়াবহ বাস্তবতার। সেদিন সময় থেমে যাবে এবং প্রত্যেক মানুষকে তার আমলের হিসাব দিতে হবে।
খুতবায় মুসলিমদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আল্লাহভীতি অর্জন এবং পরকালের জবাবদিহিতার বিষয়টি সর্বদা স্মরণে রাখার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও শায়খ আল-হুদাইফি তাওহিদের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরিক করা যাবে না এবং ইবাদত একমাত্র সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হতে হবে।
হজের খুতবা শেষে আরাফার ময়দানে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেছেন হাজিরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ নামাজ পড়েন তারা।
আরাফা ময়দানের নামিরাহ মসজিদ থেকে খুতবা পাঠ করেন শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুদাইফি। চলতি বছরও বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় পবিত্র হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়। এ নিয়ে টানা সপ্তম বারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার হলো।
এ বছর খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে ছিলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন সময়ে পড়াশোনা করেছেন।
আরবি বর্ষপঞ্জি অনুসারে সৌদিতে আজ ৯ জিলহজ। এটি পবিত্র ‘আরাফা দিবস’ হিসেবেও পরিচিত। ঐতিহাসিক এই ময়দানে দিনব্যাপী ইবাদত বন্দেগি আর দোয়া মোনাজাতে মশগুল হাজিরা। এদিন সকাল থেকে তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা, ওয়ান্নি মাতা লাকা ওয়াল্মুল্ক্, লা শারিকা লাকা’।
সাদা দুই টুকরা কাপড়ে শরীর ঢেকে হজযাত্রীরা মঙ্গলবার মিনায় ফজরের নামাজ আদায়ের পর থেকেই পবিত্র আরাফার ময়দানের উদ্দেশে রওনা করেন। এই ময়দানেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে মুসলিমরা সমবেত হন এই পবিত্র প্রান্তরে।
আজ সৌদির স্থানীয় সময় সূর্যাস্তের পর হাজিরা পরবর্তী গন্তব্য মুজদালিফার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বুধবার (স্থানীয় তারিখ ১০ জিলহজ) পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং শুরু হবে ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করে নিজ নিজ দেশে ফিরতে শুরু করবেন।