পাইকগাছা প্রতিনিধি : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাইকগাছার রাড়ুলী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা চালানো, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনের প্রতি আনুগত্যহীনতা এবং দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে রাড়ুলী ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য (রুকন) শেখ মহিবুল্লাহর সদস্যপদ (রুকনিয়াত) সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এমরান হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে গত ২৭ মে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে চিঠিটি পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাঈদুর রহমানের কাছে প্রেরণ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাড়ুলী ইউনিয়নের সদস্য (রুকন) শেখ মহিবুল্লাহ সংগঠনের আনুগত্য ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার সদস্যপদ (রুকনিয়াত) সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোমিন সানার নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে শেখ মহিবুল্লাহ নিজেই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন এবং ইউনিয়নজুড়ে প্রচার-প্রচারণা চালান।
এমনকি ঈদুল আজহার পরদিন সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন করে নিজের প্রার্থিতার জানান দেন তিনি। বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বের নজরে এলে শুরু হয় সাংগঠনিক তদন্ত ও পর্যালোচনা। পরবর্তীতে জেলা নেতৃত্ব তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তবে শেখ মহিবুল্লাহ দাবি করেছেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। এ কারণে তিনি গত ১১ মে দল থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। বহিষ্কারের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
পাইকগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাঈদুর রহমান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা জামায়াতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মহিবুল্লাহর রুকনিয়াত সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার পরিণতি হিসেবে এ বহিষ্কারাদেশকে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে রাড়ুলী ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণেও এ ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।