প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ৫:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাতক্ষীরা সীমান্ত জুড়ে বিজিবি’র রেড এল্যাট: সতর্ক জারি করতে মাইকিং
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ও সম্ভাব্য পুশব্যাক প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। গভীর রাতেও বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতামূলক ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্ত আইন অমান্য করে কোনো ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতেও সীমান্ত জুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবির টহল। বুধবার ভোর রাত থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এনে টহল জোরদার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা হলে তা বিজিবি তা রুখে দিবে।
এদিকে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় কিছু কথিত বাংলাদেশিকে জড়ো করে । পরে সীমান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এসব বসবাসকারীদের
বাংলাদেশের অনেক আত্মীয় স্বজন সাতক্ষীরার তলুইগাছা, ভাদুড়িয়া, কাকডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। বুধবার সকালে এমন কয়েকজনের সাথে স্থানীয় সীমান্তের লোকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান অনেক আত্মীয়স্বজন পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিল। একদিকে বিজিবি সরকার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে তারা পুনরায় বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
বুধবার ভোরে বরিশালের আগৈলঝাড়া এলাকায় অসিত কুমার কর্মকার নামক এক ব্যক্তি কে কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা সীমান্তে ঘোরাঘুরি করতে দেখেছে স্থানীয় গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীদের প্রশ্নের মুখে তিনি জানিয়েছেন, তার বোন ভাগ্নি ভগ্নিপতি সহ এক পরিবারের ৬ জন দীর্ঘ ১০/১২ বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হাবড়ায় বসবাস করছিল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসায় তাদের সকল সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে । এবং সেখানে বসবাস করাও অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা বাংলাদেশের ফিরতে চায়। তাদের ফোন পেয়ে অসিত কর্মকার এসেছিলেন সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায়। তবে বিজিবি সদস্যরা আসার খবরে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিটেক্টেড ডিফল্ট হোল্ডিং সেন্টার সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনার পর অবৈধভাবে বসবাসকারীদের দেশে ফেরার অপতৎপরতা বেড়েছে বলে এমন শংকার কথা জানিয়েছেন কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার একাধিক সূত্র।
এ পরিস্থিতির মধ্যে সাতক্ষীরা সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক পরিস্থিতি মোকাবিলায় গভীর রাতেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় শত শত নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয় বলেও সীমান্ত জুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারি ও প্রস্তুতির কারণে বড় ধরনের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত