দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর ৭১টি পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট নানা কারণে অচল হয়ে পড়েছে| ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্মিত প্ল্যান্টগুলো জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না| এতে একদিকে সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে উপজেলার হাজারো মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে| অন্যদিকে প্ল্যান্টগুলোর বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট ও বিকল হয়ে যাচ্ছে|
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর নুতন জীবন লাইভলিহুড ইমপ্রুমেন্ট প্রকল্পের চালনা, বাজুয়া ও লাউডোব ৩টি ক্লাস্টারের আওতায় বিভিন্ন গ্রাম সমিতির নামে ৭১টি পানির প্ল্যান্ট নির্মান করা হয়| বিগত ৮ বছর আগে বিশ^ ব্যাংকের অর্থায়নে এসব প্ল্যান্ট নির্মান হয়| প্রতিটি পানির প্ল্যান্টে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্মান কাজ বাস্তবায়ন করে এশিয়ান কর্পোরেশন ও গাজী ওয়াটার নামে দুইটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান| প্রতিটি প্ল্যান্ট প্রতি ঘন্টায় ৫০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি সাপ্লাই দেওয়ার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে| নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর প্ল্যান্টগুলো ¯^-¯^ সমিতির কাছে হস্তান্তর করা হয়| এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি সংস্থা পানির প্ল্যান্ট ও পিএসএফ নির্মান করে| প্ল্যান্টগুলো মাত্র কয়েক মাস সচল থাকলেও বর্তমানে এসডিএফের ওই সব প্ল্যান্ট বিভিন্ন কারণে অচল হয়ে পড়েছে| অন্যান্য সংস্থার দুই একটি প্ল্যান্টও| দীর্ঘদিন যাবৎ অযত্ন ও অবহেলায় বন্দ অবস্থায় পড়ে আছে প্ল্যান্টগুলো| ফলে ভেতরে থাকা বিভিন্ন লোহার সরঞ্জামাদিতে জং ধরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে| ইলেক্ট্রিকের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে| এমনকি মাঝে মধ্যে প্ল্যান্টের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরিও হচ্ছে| পাশা পাশি আর কোন পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট না থাকায় ব্যক্তি মালিকানা প্ল্যান্ট থেকে অনেকে চড়া দামে বিশুদ্ধ পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে| অনেকে আবার সরাসরি পুকুরের পানি পান করছেন| অনেক ¯^চ্ছল ব্যক্তি আবার বটিয়াঘাটা, খুলনাসহ বাহিরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি কিনে জীবন ধারন করছেন| যেহেতু প্ল্যান্টগুলো জনসাধারণের কোন কাজে আসছে না তাহলে কেন দাতা সংস্থা বিশ^ ব্যাংকের এতো টাকা অপচয় করা হলো এমন অভিযোগ অসংখ্য মানুষের| এতে জনসাধারণের চরম হয়রানি এবং ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে|
ওড়াবুনিয়া গ্রাম সমিতির সভাপতি মমতা রায় জানান, অতিরিক্ত লবণাক্তার কারণে মেশিনের হেড অত্যান্ত দূর্বল হয়ে গেছে| মেশিনে পানি ওঠে অনেক কম আর কারেন্ট পোড়ে বেশি| মাঝে মধ্যে মোটেও পানি ওঠে না| মেরামত করতে গেলে এখন অনেক টাকার প্রয়োজন| যে কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ প্ল্যান্ট বন্দ রয়েছে| তার মতো একাধিক সমিতির সভাপতি বিভিন্ন সমস্যার কারণে পানির প্ল্যান্ট বন্দ থাকার অভিমত ব্যক্ত করেন|
এবিষয়ে উপ-সহকারি জন¯^াস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, অব্যবস্থাপনার কারণে এসডিএফের পানি বিশুদ্ধ করণ প্ল্যান্টগুলো অচল হয়ে পড়েছে| যদি প্ল্যান্টগুলো নির্মান এবং চালুর পর ভালো একজন অভিজ্ঞ লোক মনিটরিংয়ের কাজে নিয়োজিত থাকতো তাহলে প্ল্যান্টগুলো এতো দ্রুত অচল হতো না| এতে বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে| তবে প্ল্যান্টগুলো মেরামত করলে সুপেয় বিশুদ্ধ পানি সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি মনে করেন|
এব্যাপারে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) খুলনা জেলা ম্যানেজার কাজী হাসানুরজ্জামান জানান, নতুন করে এসডিএফের পক্ষ থেকে আর অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই| কারণ ওই প্রকল্পের মেয়াদ আরো অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে| এখন গ্রাম সমিতির ফান্ডে যদি টাকা থাকে তাহলে তারা সেখান থেকে টাকা তুলে প্ল্যান্ট মেরামত করতে পারবে| আর যদি সরকার প্ল্যান্টগুলো মেরামত করে দেয় তাহলে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংকট থেকে মুক্তি পাবে বলে তিনি মনে করেন|