প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২, ২০২৬, ১:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
উজিরপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের শেষ সম্বল ভিটেমাটি দখলের অভিযোগ
আলতাফ হোসেন অনিক, উজিরপুর : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাঠী গ্রামে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম কেশবকাঠী গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ দাস পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। পরিবারের দাবি, তাদের মালিকানাধীন জমির ৬৬ শতাংশ স্থানীয় মোতাহার মল্লিকের কাছে বিক্রি করা হলেও পরবর্তীতে তিনি কথিতভাবে ১২০ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে সি আর কেস নং-৪৪০/২০২৩ এবং ফৌজদারি রিভিশন নং-১৫১/২০২৪ উল্লেখযোগ্য।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত ৩০ মে মোতাহার মল্লিক, তার ছেলে জুলহাস মল্লিক, জাহিদ মল্লিকসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক বসতবাড়িতে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গাছ কাটার সময় বাধা দিলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে রয়েছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে অন্যের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছেন।
সুভাষ দাস বলেন, “আমরা এ দেশের নাগরিক। নিজের ভিটেমাটিতে নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোতাহার মল্লিক বলেন, “আমি দলিলমূলে ১২০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। সেই জমির গাছ কেটেছি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংখ্যালঘু পরিবারের জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত