প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুষ্টিয়া-মেহেরপুর গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে ময়লা ফেলার একটি ভাগাড়। প্রতিদিন সেখানে ফেলা হচ্ছে নানা ধরনের বর্জ্য,
যার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পথচারী, যাত্রী ও আশপাশের মানুষ। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে বিষয়টি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সমপ্রতি সেখানে মৃত পশুও ফেলে রাখা শুরু হয়েছে, যা শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, জনস্বাস্থ্য ও সড়ক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের মহাসড়কগুলো শুধু যানবাহন চলাচলের পথ নয়; এগুলো দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগ ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু একটি ব্যস্ত হাইওয়ের পাশে যদি এমন দুর্গন্ধযুক্ত
ভাগাড় থাকে, তাহলে তা শুধু বিব্রতকর নয়, অত্যন্ত উদ্বেগজনকও বটে।
মৃত পশু বা পচনশীল বর্জ্য ফেলে রাখার ফলে কয়েকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। প্রথমত, ভয়াবহ
দুর্গন্ধ। গরমের সময় এই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যা আশপাশের বসবাসকারী মানুষদের জন্য অসহনীয় হয়ে পড়ে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে ক্ষতিকর। দীর্ঘসময় এমন দূষিত পরিবেশে থাকলে শ্বাসকষ্ট, বমিভাবসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধির মারাত্মক লঙ্ঘন। পচা বর্জ্য ও মৃত প্রাণী বিভিন্ন জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া ও রোগ ছড়ানোর অন্যতম উৎস। মাছি, মশা, কুকুর ও
শেয়ালের মতো প্রাণী এসব জায়গায় ভিড় জমায়। বিশেষ করে রাতে খাদ্যের সন্ধানে কুকুর ও শেয়াল মহাসড়কে উঠে আসে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক চালক হঠাৎ প্রাণী সামনে চলে আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। একটি অব্যবস্থাপনা তখন বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তৃতীয়ত, এটি একটি এলাকার সামগ্রিক সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তিকেও নষ্ট করে।
একটি উপজেলার প্রবেশমুখ বা প্রধান সড়কের পাশে যদি এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে, তাহলে বাইরের মানুষের কাছে পুরো এলাকার একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
উন্নয়ন শুধু রাস্তা বা ভবন নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এখন প্রশ্ন হলো, এর সমাধান কী? প্রথমত, জনবসতি ও মহাসড়ক থেকে দূরে পরিকল্পিত ডাম্পিং জোন তৈরি করতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মৃত পশু দ্রæত অপসারণ ও সঠিকভাবে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত
করতে হবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কারণ পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি নাগরিক দায়িত্বও।
বিশ্বের অনেক দেশে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তর করা হচ্ছে। রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস বা কম্পোস্ট সার তৈরির মতো উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যাবহার করা যায়।